• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর শরীরের খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ৫, ২০২০, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ণ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর শরীরের খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জখম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

লাঠিসোটা দিয়ে মারধরের পর জ্যামিতি বক্সের সুচালো কাটা কম্পাস দিয়ে স্পর্শকাতর অঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আহত করার অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

গুরুতর অবস্থায় তাকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ছাত্রীকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ ঘটনা তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন ওই ছাত্রীর স্বজনরা।

এদিকে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আহত ছাত্রীর নাম জান্নাতুল নওরীন উর্মি। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের (২০১৫-১৬ বর্ষের) শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

উর্মি জানান, গত পহেলা মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সিঁড়িতে তাকে ঘিরে ধরে একদল মুখোশধারী।

এ সময় সে চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ওই ভবনের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে তারা।

পরে তার হাতে থাকা জ্যামিতি বক্সের কাটা কম্পাস দিয়ে উর্মির স্পর্শকাতর অঙ্গসহ তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জখম করে তারা।

ওইদিন কোনমতে বাসায় ফিরে গেলেও নিরাপত্তার অভাবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।

কিন্তু বাসায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ বুধবার দুপুরে উর্মিকে ভর্তি করা হয় শের-ই বাংলা মেডিকেলের মহিলা সার্জারি-২ ইউনিটে।

উর্মির ভাই মো. মেহেদী হাসান সোহেল জানান, এর আগেও উর্মিকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেয়া হয়।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হলেও ক্ষতস্থানে ইনফেকশনের আশংকায় তাকে হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়।

উর্মির বোন ফাতেমা-তুজ জোহরা মিতু বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পরও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

তিনিসহ স্বজনরা উর্মিকে নির্যাতনকারীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক ডা. সালেহ মাহদী বলেছেন, উর্মির ক্ষত আশংকাজনক নয়।

তবে তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস জানান, বিষয়টি তার জানা ছিলো না।

বুধবার বিকেলে গনিত বিভাগের দুইজন শিক্ষক এবং একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি ছাত্রী নির্যাতনের বিষয়টি অবহিত হয়েছেন।

কারা কেন এই ঘটনা ঘটিয়েছে তার অনুসন্ধানসহ লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি।