• ২২শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে করোনা ইউনিটে ভর্তি ৬ রোগীর শরীরে করোনা পাওয়া যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ৪, ২০২০, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে করোনা ইউনিটে ভর্তি ৬ রোগীর শরীরে করোনা পাওয়া যায়নি

বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মৃত্যু হওয়া জাকির হোসেনসহ চিকিৎসাধীন ৫ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি।

এমনকি ওই ইউনিট থেকে সুস্থ্য হয়ে যারা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন তারাও করোনায় আক্রান্ত হননি।

শনিবার ঢাকার আইইডিসিআর থেকে আসা ৬জনের পরীÿার রিপোর্ট করোনা ভাইরাস নেগেটিভ এসেছে।

দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পারিচালক ডাঃ মো. বাকির হোসেন।

জানাগেছে, শের-ই বাংলার করোনা ওয়ার্ডে করোনা সন্দেহে প্রথম রোগী ভর্তি হয় গত ১৭ মার্চ বিকেলে।

ওইদিন চট্টগ্রামের কভার্ডভ্যান চালক ভোলার চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের মো. রাসেল মোলøা (২৫) জ্বর, সর্দি-কাঁশি আর গলাব্যাথা নিয়ে ভর্তি হন তিনি।

প্রচলিত চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ১৯ মার্চ ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যান তিনি।

২দিন পর ১৯ মার্চ একই উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের ভাষানচরের বাসিন্দা ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টের শ্রমিক মো. শহিদুল জোমাদ্দার (২৪)। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ২১ মার্চ তিনিও বাড়ি ফিরে যান।

এরপর একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে ২৩ মার্চ বরিশালের বানারীপাড়ার কলেজছাত্র স্বপন হাওলাদার (২৭) ও নগরীর বাজার রোডের মো. শাওন (২৩), ২৪ মার্চ পটুয়াখালীর বাউফলের নিমদি গ্রামের মো. নোমান (২৫), ২৫ মার্চ বরিশাল সদরের চাঁদকাঠী এলাকার বিথি আক্তার (২৬) এবং একই জেলার আগৈলঝাড়ার তৃষ্ণা (৪৫) ভর্তি হন।

২৮ মার্চ বিকেলে ভর্তির পরদিন ২৯ মার্চ সকাল ৭টা ২০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় পটুয়াখালী সদরের বহালগাছিয়া এলাকার মো. জাকির হোসেন (৪০)।

সর্বশেষ গত শুক্রবার বিকেলে করোনা সন্দেহে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয় জেলার মেহেন্দিগঞ্জের আন্দারমানিক গ্রামের মো. সবুজ (২৮)।

এদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিসায় সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া প্রথম ২জনের নমুনা পাঠানো হয়নি ঢাকার আইইডিসিআর-এ।

এছাড়া শুক্রবার করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া সবুজ ছাড়া এখানে মৃত্যু হওয়া একজন এবং চিকিৎসাধীনসহ মোট ৬জনের রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছিলো ঢাকার আইইডিসিআর-এ।

শনিবার আইইডিসিআর থেকে পাঠানো ৬জনের রিপোর্ট নেগেটিভ।

অর্থাৎ করোনা সন্দেহে মারা যাওয়া একজন এবং চিকিৎসা নেয়া আরও ৫ জনের কেউ-ই করোনায় আক্রান্ত নয়।

হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন বলেন, এটা অত্যন্ত আনন্দের খবর যে তারা কেউ করোনায় আক্রান্ত নয়।

এই খবর জনগনের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা অনেকটা দূর করবে।

তবে করোনা সংক্রামন এড়াতে সরকারি বিধি-নিষেধ মেনে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করাসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সকলের প্রতি আহŸান জানান ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন। ##