জি.এম রিপন,বানারীপাড়া ঃ
বানারীপাড়ায় মাদক ক্রেতাদের ধরিয়ে দেয়াকে কেন্দ্রকরে স্থানীয়দের সাঙ্গে সংঘর্ষের ৮ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাওসার নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ১৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের নিহত কাওসার হোসেনের মা রওশন আরা বেগম বাদী হয়ে ৭ জনকে নামীয় ও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার নামীয় আসামীরা হলেন, স্থানীয় গ্রাম ডাক্তার মো.নজরুল ইসলাম (৩৫), কাঞ্চন হাওলাদার (৪৫), শিফাত উলøাহ (২৫), শুক্কুর (৫০), বেলøাল হোসেন (২৮), মো.রমজান (২২) ও জহিরুল ইসলাম (৩২)।
এবিষয়ে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার করপাড়া এলাকার গ্রাম ডাক্তার মো.নজরুল ইসলাম, কাঞ্চন হাওলাদার, শুক্কুর সহ এলাকাবাসী থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করে আসছিলেন, দীর্ঘ দিন ধরে ওই গ্রামের কাওসার হোসেন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কারণে প্রতি দিনই তার বাড়িতে বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মটর সাইকেলে অপরিচিত লোকজন এসে মাদক নিয়ে যাচ্ছে। তারা এবিষয়টি থানা পুলিশকে অবহ্নিত করলে পুলিশ তাদেরকে মাদকসহ ওই কারবারীকে আটক করতে সহায়তা করার আহবান জানান। সে অনুযায়ী ১০ এপ্রিল তারা স্থানীয়দের সহায়তায় কাওসারের বাড়ি থেকে মটর সাইকেলে মাদক নিয়ে যাওয়ার সময় তিন যুবককে দুই পোটলা গাজা সহ আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে প্রায় ১ ঘন্টা পর লবনসাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস.আই হাবিবুর রহমান সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার পূর্বেই কাওসার ও তার দুই সহযোগী তার বাড়ি থেকে অন্যত্র সটকে পড়েন। পরে এস.আই হাবিবুর রহমান সেখান থেকে আটক উক্ত তিন মাদক সেবী রিয়াজ বালী (২৩), বাবুল আকন (২২) ও মাইনুদ্দিন (২৩)কে দুই পোটলা গাজাসহ আটক করেণ এবং ওই দিনই তিনি বাদী হয়ে আককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করেণ। থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল এ মামলাটি তদন্ত করার জন্য এস.আই হাফিজুর রহমানকে নির্দেশ দেন। তিনি ওই দিন বিকেলে আটক তিন যুবকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেণ।
এদিকে গাজা সহ তিন যুবককে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার কারণে ÿিপ্ত হয়ে পর দিন ১১ এপ্রিল সকালে কাওসার হোসেন পাশর্^বর্তী ওলিয়ারবাড়ি এলাকা থেকে তার লোকজন নিয়ে করপাড়ায় গিয়ে গ্রাম ডাক্তার মো.নজরুল ইসলাম, কাঞ্চন হাওলাদার ও শুক্কুর সহ স্থানীয়দের ওপর চড়াও হয়। এসময় দু’পÿের মধ্যে লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয়রা মাইকিং করে ডাকচিৎকার দিলে গ্রামবাসি এগিয়ে আসে। অবস্থা বেগতিক দেখে কাওসার তার লোকজন নিয়ে পূনরায় পাশর্^বর্তী ওলিয়ারবাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়। এসময় দু’পÿের সংঘর্ষে অন্তত ৫/৬ জন লোক আহত হয়। আহতরা স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। এ ঘটনার পর ১৯ এপ্রিল কাওসার হোসেন শারিরীক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে বানারীপাড়া উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার আমিনা রহমান টুশি তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই দিনই বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করে। পরে ২০ এপ্রিল বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাওসারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে তার মা বাদী হয়ে বানরিফাড়ায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেণ। থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল এ মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য
ওসি (তদন্ত) মো.জাফর আহম্মেদকে নির্দেশ দেন। এব্যাপারে ওসি (তদন্ত) মো.জাফর আহম্মেদ জানান, মঙ্গলবার বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে কাওসারের লাশ সুরাতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট পেলে তদন্ত পূর্বক আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।
অপরদিকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি পদে পদোন্নতী প্রাপ্ত) মো.রকিবুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাখরগঞ্জ সার্কেল মো.আনোয়ার সাঈদ ও থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল। ##