• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাবুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামের কুলি থেকে কোটিপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ২২, ২০২০, ১৩:৪০ অপরাহ্ণ
বাবুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামের কুলি থেকে কোটিপতি

সরকারী চাল অবৈধ ভাবে ক্রয়-বিক্রয়ে আট বছরে এ উথ্যান!

বাবুগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি

বাবুগঞ্জ উপজেলা খাদ্যগুদামের সামান্য কুলি থেকে আজ কোটিপতি!

রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি,গাড়িসহ কোটি কেটি টাকার সম্পদ!

আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে ÿমতার দাপটে উপজেলা খাদ্যগুদাম কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট গড়ে এমন বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রাজগুরু গ্রামের দিনমজুর মৃতঃ মধু খানের ছেলে সেন্টু খান।

৮ বছর আগে সংসারের অভাব-অনটনের দৈন্যদশায় একমুঠো আহারের সন্ধানের বাবুগঞ্জ উপজেলার খাদ্যগুদামের পণ্য উঠানামার কাজের শ্রমিক হিসবে দৈনিক সরকারী নিয়মে প্রতিটন চাল লোড-আনলোড করতে ১৫০ টাকা মজুরী ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন।

এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সেন্টু খানকে।

নিজের নামে ইজারা না থাকলেও অন্যের ইজারায় হটাৎ করেই শ্রমিক সরদার পরিচয়ে খাদ্যগুদামের আশা সরকারী খাদ্যশষ্য উঠা নামনোর কাজে নিয়োজিত হন।

এরপর আ¯েÍ আ¯েÍ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে গোপনে বিভিন্ন সময় সরকারী চাল,গম ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িয়ে পরেন। এতে করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেন তিনি।

আর এ সব কিছুই বেরিয়ে এসেছে অতিসম্প্রতি বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারীর কাছ থেকে সরকারী বরাদ্ধকৃত চাল ক্রয়ের তথ্য থেকে।

গোপন তথ্যের ভিত্তিত্বে র‌্যাবের অভিযানে এ তথ্যের সত্যতা মিললে বরিশালের র‌্যাব-৮ এর ডিএডি একেএম আবু হোসেন শাহরিয়ার বাদী হয়ে বিশেষ ÿমতা আইন ১৯৭৪এর ২৫(১)/২৫-ডি আইনে সেন্টু খানসহ ৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

বর্তমানের সেন্টু পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা আসামী গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এক অনুসন্ধানে জানাগেছে,খাদ্যগুদামের কুলির অন্তরালে অবৈধ ভাবে এ চাল-গম ক্রয়ে-বিক্রয়ের মাধ্যমে ৮ বছরে রাজগুরু গ্রামে তৈরি করছেন দুইতলা বিশিষ্ট আধুনিক কারুকার্যে পাঁকা বাড়ি,রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক,নিজে ব্যবহার করছেন ২ টি দামি মোটরসাকেল,একই এলাকায় রয়েছে পাঁচতলা বিশিষ্ট নির্মানাধীন বাড়ি,পাঁচরা¯Íা নামক স্থানে চলমান রয়েছে নির্মানাধীন মার্কেট, ৮ বছরে রহমতপুর ইউনয়িনের বিভিন্ন স্থনে ক্রয় করেছেন কোটি টাকা মূল্যের জমি, রয়েছে ব্যাকিং এর মাধ্যমে মোটা অংকের লেনদেনের তথ্য,নিজ ঘরে নগদ টাকা নিরাপদে রাখার জন্য রÿিত আছে দামী সিন্ধুক।

এত অর্থ বৈভবের মালিক বনে যাওয়ায় এক সময় নেতাদের বদৌলতে হয়ে গেছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ! এর পর আর পেছনে ফিতে তাকাতে হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে আওয়ামীলীগ নেতার পরিচয়ে গত ০১ জানুয়ারী থেকে ২২ ফেব্রæয়ারী পর্যন্ত কৃষকদের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান ক্রয়ের নামে অভিযুক্ত সেন্টুর সিন্ডিকেট করে একাই ৪ শত মেট্রিকটন ধান ক্রয় করে খাদ্যগুদামে সরবরাহের মাধ্যমে অবৈধ্য ভাবে হাতিয়ে নিয়েছে ১০ লÿাধিক টাকা।

একসব অপকর্মের পরই বহাল তবিয়তে ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন কুলি থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া সেন্টু খাঁন।

অবশেষে কেদারপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছ থেকে জেলেদের নামে বরাদ্ধকৃত চাল বিতরণ না করে নিজে অবৈধ্য ভাবে ক্রয় করে ফেঁসে যাচ্ছেন তিনি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সেন্টু খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব কাজী ইমদাদুল হক দুলাল বলেন, সরকারী চাল চুরি ব্যাপারে সরকার জিরোট্রলারেন্স।

সেন্টু খানের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে জেনেছি, অভিযোগের বিষয়ে প্রমান পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।