ফাইল ছবি ৬৪ কলেজে অনলাইনে ক্লাশ কার্যক্রম অপলোড
আরো ১১৫ কলেজে প্রস্তুতি গ্রহন
চালু হয়েছে ‘হ্যালো স্যার’ কার্যক্রম
সাঈদ পান্থ
সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও দিনে দিনে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যাচ্ছে করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের কারণে প্রায় সারা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারও গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এক মাসেরও বেশি সয়ম ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও গ্রহন কার্যক্রম। যা শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। তাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় ‘হ্যালো স্যার’ কার্যক্রম শুরু করেছে। সরকারও সংসদ টিভির মাধ্যমে ‘আমার ঘরে আমার ক্লাস’ চালু করেছে। শুধু তাই নয় এই পরিস্থিতিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে বরিশাল তথা দিক্ষণাঞ্চলের একমাত্র ইংলিশ ভার্সণের স্কুল এন্ড কলেজ “জাহানারা ইসরাইল স্কুল এন্ড কলেজ”।
বরিশাল নগরীর কলেজ রো’তে অবস্থিত এই স্কুল এন্ড কলেজ’র শিক্ষকদের সিদ্ধান্তেই এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়। গত ১২ এপ্রিল থেকে jis.edu.bd ওয়েব পেইজে Online Class Portal এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অনলাইন সফটওয়্যার ব্যবহার করে ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সকল প্রকার শিক্ষা ব্যবস্থা, নোট, হোমওয়ার্ক শিক্ষকদের নিকট থেকে গ্রহণ করছে। পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষকদের নিকট উক্ত সিস্টেমের মাধ্যমে প্রেরণ করছে। এই অনলাইন সিস্টেম চালু করায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। স্কুলের প্রি-কে ছাত্রী ঋধিতা শৈলী ঋদ্ধ রোসা’র মা শারমিন লুনা বলেন, ‘এমন সিস্টেম বরিশালে এই প্রথম। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে এটি ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘ দিন পর স্কুলে না গিয়ে বসায় বসে স্কুলের পাঠ গ্রহন করতে পারবে। এজন্য স্কুল কর্র্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবি সালেহ এম শেলী বলেন, ‘এমন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়বে না। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই স্কুলের সকল নোট, হোমওয়ার্ক করতে পারছে। এমন ব্যবস্থা প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন। নতুবা শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে ‘হ্যালো স্যার’ এর মাধ্যমে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলিক শাখা। বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসাইন বলেন, শোনা যাচ্ছে ঈদ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে। তাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ‘আমার ঘরে আমার ক্লাস’ কার্যক্রম চালু করেছে। দেশের উচ্চ মানের শিক্ষকরা এই পাঠদান করাচ্ছেন। সেখানে বাড়ির কাজও দিয়ে দিচ্ছে। এই হোম ওর্য়াকগুলো স্কুল খোলার পর তার স্কুলের শিক্ষকদের কাছে জমা দিবেন। সে অনুযায়ী শিক্ষকরা মূল্যায়ন করবেন। পাশাপাশি বরিশালের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে তাদের শুভেচ্ছা জানাই। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা সামান্য হলেও পড়াশোনায় আগাবে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য ইতোমধ্যে সরকার সংসদ টিভির মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। আমরা লোকাল পর্যায়েও অনলাইনে পাঠদান ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা চালাচ্ছি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করছি যেন বাসায় বসে শুধু শুধু সময় না কাটিয়ে নানা মাধ্যমে পাঠগ্রহন করেন।
এব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা নানা কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রতন্ত অঞ্চলে যাদের ইন্টারনেট ব্যবস্থার সুযোগ নেই তাদের জন্য আমরা ‘হ্যালো স্যার’ কার্যক্রম শুরু করেছি। শিক্ষকরা রুটিন করে দিবেন, সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ফোন করে শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহন করতে পারবে। পাশাপাশি সংসদ টিভির মাধ্যমে ১ম থেকে ১০ ম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান শুরু করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বরিশালের ৬৪ কলেজ অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম অপালোড করছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা সেই ক্লাসের পড়া পড়তে পারবে। পাশাপাশি আরো ১১৫ কলেজ একই কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, স্কুলের পাঠদান টিভির মাধ্যমে করা হচ্ছে। এছাড়া এ অঞ্চলের ভাল কলেজগুলো অনলাইনে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, শিক্ষা সচিবের সাথে আমাদের সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে। খুব শীঘ্রই বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। হয়তো এই দীর্ঘ ছুটির পর ঐচ্ছিক কিছু ছুটির সময় কমানো হবে। আর পাবলিক সার্ভিস চালু হলে বা দেশে ভাল অবস্থায় গেলে ১০ দিনের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেয়া হবে।
তিনি বলেন, যেসব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেখানে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ ও জেলা প্রশাসক-উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা জেলা শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেয়া হবে। ##