জি.এম রিপন,বানারীপাড়া ঃ
বানারীপাড়ায় এক প্রসূতীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার না করে পাশর্^বর্তী সেবা সদন ক্লিনিকে নিয়ে সিজার করার কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরীকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কবির হাসানকে প্রায় ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় স্থানীয় যুবকরা উত্তেজিত হয়ে সেবা সদন ক্লিনিকে সিজার চলাকালিন সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
এ সময় খবর পেয়ে পৌর সভার প্যানেল মেয়র আকবর হোসেন সরদার, সাংবাদিক এস.মিজানুল ইসলাম, রাহাদ সুমন ও সুজন মোলøা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত যুবকদের সান্ত করে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এব্যাপারে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০ এপ্রিল থেকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র বেশির ভাগ ডাক্তার ও নার্স হোম কোয়ারেনন্টাইনে থাকার কারণে এক সপ্তাহ ধরে প্রসূতীদের পাশর্^বর্তী সেবা সদন ক্লিনিকে নিয়ে সিজার করে আসছেন।
এব্যাপারে প্রসূতির পরিবারসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বানারীপাড়ায় করোনায় আক্রান্ত সেই মা-মেয়ে উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে চিকিৎসা সেবা নেন।
একারণে ২০ এপ্রিল থেকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র বেশ কয়েক জন চিকিৎসক ও নার্স হোম কোয়ারেনন্টাইন রয়েছেন।
একারণে বুধবার সকালে উপজেলার উত্তর বাইশারী গ্রামের লেগুনা চালক মীর মিরাজ হোসেনের স্ত্রী শারমিন বেগম (২৪) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে জরুরী ভিত্তিতে সিজার করাতে পারেননী।
ফলে প্রসূতীর নিয়মিত চেকআপ করার দায়ীত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবিকা নিরুপমা তাকে চেকাপ করতে গিয়ে জরুরী ভিত্তিতে তার সিজার করা দরকার, অন্যথায় প্রসূতির যে কোন সময় বিপদ ঘটতে পারে বলে তার সাথে আসা শশুর মীর শহিদুল ইসলামকে জানান।
এসময় তিনি আরও জানান, আমাদের হাসপাতালে করোনার কারণে হোম কোয়ারেনন্টাইন চলছে।
এ কারণে এখানে সিজার করা সম্ভব হচ্ছে না।
এÿেত্রে ওই সেবিকা তাদেরকে জরুরী ভিত্তিতে প্রসূতী শারমিনকে অন্য কোন হাসপাতালে নিয়ে সিজার করার কথা জানান।
পরে প্রসূতীর শশুর মীর শহিদুল ইসলাম তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল গেটের সামনে সেবা সদন ক্লিনিকে নিয়ে যান।
সেখানে তাদের সাথে ১১ হাজার টাকা চুক্তিতে প্রসূতীর সিজার ও ৭ দিনের ক্যাবিন ভাড়া চুক্তি করে ৮ হাজার টাকা জমা দেন।
পরে ওই দিন সকাল পৌনে ১০টায় সেবা সদন ক্লিনিকের মালিক পÿ তাদের ক্লিনিকে এক জন প্রসূতীকে জরুরী ভিত্তিত্বে সিজার করার জন্য সার্জারী ও গাইনী বিশেষজ্ঞ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরীকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো.কবির হাসানকে অনুরোধ জানান।
এসময় ডাক্তার কবির হাসান সেখানে গিয়ে ওই প্রসূতীকে সিজার করেন। সিজারের পর প্রসূতী ও নবজাতক কন্যা সুস্থ রয়েছেন বলে ডাক্তার কবির হাসান জানান।
এদিকে হাসপাতাল থেকে প্রসূতীকে সামনের ক্লিনিকে নিয়ে সিজার করতে যাওয়ার কারণে ÿিপ্ত হয়ে স্থানীয় যুবকরা সেবা সদন ক্লিনিকের সামনের সড়কে জড়ো হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরীকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কবির হাসানকে কটউক্তি করেন এবং তাকে সিজার করা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রায় এক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।
পরে খবর পেয়ে পৌর সভার প্যানেল মেয়র আকবর হোসেন সরদার, সাংবাদিক এস.মিজানুল ইসলাম, রাহাদ সুমন ও সুজন মোলøা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত যুবকদের সান্ত করে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরীকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কবির হাসান জানান, হাসপাতাল হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় মানবিক কারণে একজন সেবক হিসেবে তিনি জরুরী ভিত্তিতে সেবা সদন ক্লীনিকের এক জন মা ও তার নবজাতকে বাচাতে গিয়ে প্রসূতীকে সিজার করেছেন।
তিনি আরও জানান, এর আগে ১৭ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত মা-য়েয়েকে তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কারণে তাদের অনেককেই ২০ এপ্রিল থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন।
এর পরেও তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৪টি সিজার ও ৪৮টি নরমাল ডেলীভারী করেছেন।