সাইফুল ইসলাম,বাবুগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি ঃ সাথী আক্তার! আজ থেকে ১৭ বছর আগে মাদারীপুর জেলার কালকিনি থেকে জীবিকার তাগিদে বরিশালের বাবুগঞ্জে এসেছিলেন। জন্মসূত্রে হরিজন সম্প্রদায়ের না হলেও বৈবাহিক সূত্রে হয়ে যান হরিজন সম্প্রদায়। ২০০৩ সালের দিকে জীবিকার তাগিদে স্বামীর সাথে বাবুগঞ্জ বন্দরে বসবাস শুরু করেন। স্বামীর সুইপার (মেথর) পেশাকে নিজে বুকে ধারণ করে তার সাথে নেমে পরেন জীবিকার তাগিদে। বেশ কয়েক বছর হয়তো সংসার ভালই চলছিলো। এরই মধ্যে দুজনের সংসারে চলে আসে একটি পুত্র সন্তান! একদিকে অভাবের সংসারে দুজনকেই করতে হচ্ছে কাজ তার উপর সন্তানের দেখভাল। কাজে কিছুটা বেঘাত হলেও এভাবেই চলছিলো জীবনের সংগ্রাম। স্বামী কিছুটা নেতাগ্রাস্থ থাকায় মাঝে মাঝেই সাথী আক্তারকে রেখেই নিরুদ্দেশ হতেন। তব্ওু সাথী বিচলিত না হয়ে শিশু সন্তান নিয়েই বাবুগঞ্জ উপজেলা সর্বত্রই সুইপারের কাজ করে জীবন চালাতো। এদিকে বছর দু’য়েক যেতে না যেতেই কন্যা সন্তানের মা হন সাথী আক্তার। একে একে ১ কন্যা ৩ পুত্র সন্তানের বিশাল পরিবারের দায়িত্ব পরে সাথী আক্তারের কাঁধে। বাগেরহাটের ছেলে স্বামী সুমন খান নেশায় আসক্ত হয়ে প্রায়ই আতœগোপনে চলে যেতেন,এমন পরিস্থিতিতে সাথী ছোট ছোট সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেন। ২০১৪ সালের দিকে স্বামী মোঃ সুমন খান চুয়াডাঙ্গা জেলা এক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেন। এর পর থেকেই শুরু হয় সাথীর বেঁচে থাকার লড়াই ! চারটি সন্তান নিয়ে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দিনপার করছিলেন সাথী। এদিকে বৈশ্বিক বিপর্যয় (কোভিড-১৯) করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে যখন লগ ডাউন ঘেষনা করা হয়েছে। ঠিক সেই সময়ে সাথী আক্তার ও থাকতে চেয়েছিলো তার ঘরে! কিন্তু কিভাবে থাকবে? তার তো মাথা গোজার নিজস্ব কোন ঘর নেই ! দীর্ঘ ১৭ টি বছর বাবুগঞ্জ বন্দরের গণসৌচাগারের সাথে একটি টিনের চালার নিচে তার ছিলো বসবাস। কিন্তু সেই ঘরটিও আজ জীর্ণতা বাসা বেঁধেছে। মাথার উপর সামান্য কয়েকটি টিনও আজ ভেদ করে বর্ষনের পনি পড়ছে তার মেঝেতে। এই বর্ষায় সবাই যখন রাতের গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ঠিক তখনই চারটি সন্তান নিয়ে সাথীর চলছে বেঁচে থাকার লড়াই। তার বসত ঘরটির পুরো টিনের চালা ভেদ করে প্রবল বর্ষন আলিঙ্গন করছে সাথীর পরিবারের সাথে। প্রবল বর্ষনে যখন আমরা বেলকনিতে দারিয়ে বৃষ্টি জলে হাত ভিজিয়ে উচ্ছ¡াসিত হই ঠিক তখনই সাথী তার চারটি অবুঝ সন্তানকে বৃষ্টি জলে ভেজা থেকে রক্ষা করতে চালিয়ে যান এক মহা-যুদ্ধ। হয়তো সে যুদ্ধে সে জয়ী হতে না পারলেও ¯্রষ্টা নিজেই তার কাছে হার মেনে ক্ষণিকের জন্য থামিয়ে দেয় বর্ষণ। তবে এভাবে আর কত? সাথীর বেশি কিছু চাওয়া নেই সমাজের কাছে! নিজের মাথা গোঁজার ঠাইটুক যেন বৃষ্টির জল আটকাতে পারে। সেইটুকই তার চাওয়া। বিগত ২ মাসে সমাজ সেবক আতিকুর রহমান আতিকের ম্যাধমে কিছু চাল,ডাল,আলু,তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়া সাথীর ঘরে জুটেনি সমাজের বিত্তবান কিংবা জনপ্রতিনিধির কোন খাদ্য সহায়তা। বিগত ২ মাসে কোন কাজ না থাকায় খেয়ে না খেয়ে এখনও বেঁচে আছে সাথীরা। হয়তো আরো কিছুদিন থাকবে যতদিন বিধাতা চাইবে। ততদিন যেন বৃষ্টি ভিজে রাতের ঘুমটুক হারিয়ে না যায় তার এবং তার সন্তানদের জীবন থেকে। তাই সাথীর দাবি তার জীর্ণ বসতঘরটি সমাজের বিত্তবান মানুষের মাধ্যমে কিছু ঢেউটিন সরবরাহের মাধ্যমে মেরামত করে বৃষ্টি ভেজা থেকে রক্ষা পেতে পারে।