জি.এম রিপন,বানারীপাড়া ঃ
বানারীপাড়ায় ইউএনও ও বরিশাল সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রোনোদনা দিয়েছেন জানিয়ে অভিনব কায়দায় বিকাসের মাধ্যমে দু’জনের কাছ থেকে ৬৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকচক্র।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুলতান হোসেন ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান গোলাম মোস্তফা দুলাল বখ্স এ প্রতারণার শ^ীকার হন। ওই দিন তাদের কাছ থেকে প্রতারকচক্র অভিনব কায়দায় বিকাসের মাধ্যামে এ টাকা হাতিয়ে নেয়।
এব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান গোলাম মোস্তফা দুলাল বখ্স জানান, বৃহস্পতিবার বেলা অনুমান ২টার দিকে একই এলাকার ইউপি সদস্য মো.মন্টু তার ব্যক্তিগত ০১৭৩৫৭২৩৬০৭ মোবাইল নম্বরে ফোন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রোনোদনা পেয়েছেন বলে জানিয়ে জরুরী ভিত্তিতে ইউএনওর ০১৮৬৫৮৬৩৪৩৯ নম্বরে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেণ। এসময় সে ইউপি সদস্য মন্টুর দেয়া ওই মোবাইল নম্বরে ফোন করে তাকে স্যার বলে সম্মোদন করে ফোন দিতে বলার কারণ সম্পর্কে জানতে চান। এসময় ইউএনও পরিচয় দেয়া ওই নম্বরের প্রতারকচক্রের সদস্য তাকে সোনালী ব্যাংকের তিন লাখ টাকা লোন আছে কিনা জানতে চান। সে ওই ব্যাংকে তার লোন থাকার কথা শ^ীকার করলে ইউএনও পরিচয় দেয়া প্রতারক তাকে লোনের টাকা পরিশোধ করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রোনোদনার ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা তার ব্যাক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। তাকে ওই টাকা তার ব্যাংক একাউন্টে পেতে হলে বরিশাল সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের ০১৮২৭২২০৫১৫ নম্বরে কথা বলতে বলেন। সে অনুযায়ী দুলাল বখ্স ওই নম্বরে ফোন দিয়ে তার নাম পরিচয় বলার পর বরিশাল সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পরিচয় দেয়া প্রতারক তাকে প্রধানমন্ত্রীর প্রোনোদনার ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পেতে হলে ওই দিন অফিস চলাকালিন সময়ের মধ্যে তার কাছে ৩৮ হাজার ৫’শ টাকা পাঠাতে হবে বলে জানান। অন্যথায় সে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রোনোদনার ওই টাকা পাবেন না বলে জানান। ওই সময় দুলাল বখ্স তার কথা শুনে তাৎক্ষণিক বাড়ি থেকে বানারীপাড়া বন্দর বাজারে এসে মর্ডান লাইব্রেরীর ৩টি বিকাস নম্বর দিয়ে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পরিচয় দেয়া প্রতারকের ওই নম্বরে মোট ৩৮ হাজার ৫’শ টাকা পাঠান।
অপরদিকে একই ভাবে ইউপি সদস্য মন্টুর কাছ থেকে খবর পেয়ে একই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সুলতান হোসেনও বরিশাল সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পরিচয় দেয়া ওই প্রতারকের নম্বরে মোট ২৮ হাজার ৫’শ টাকা পাঠিয়েন বলে জানান। এব্যপারে দুলাল বখ্স জানান, ওই দিন বিকেলে তিনি বাদী হয়ে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে বানারীপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন।
এব্যপারে থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল জানান, তদন্ত পূর্বক প্রতারক চক্রকে খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে প্রতারক থেকে এলাকার জনগনকে সতর্ক করে ইউএনও বানারীপাড়া ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়েছেন,বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা সুলতার হোসেন ও বেল্লাল বখস’র কাছ থেকে ইউএনও ও বরিশাল সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পচিয় দিয়ে বিকাসের মাধ্যমে ৬৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার খবর জানতে পেরে তাৎক্ষণিক নিজের ফেসবুক আইডিতে ওই স্ট্যাটাস দিয়ে জনগনকে প্রতারক থেকে সতর্ক থাকার আহবান জানান।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ জানান, উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও এলাকার বিশিষ্টজনদের কাছে তার ব্যাক্তিগত ও সরকারী মোবাইল নাম্বার থাকার পরেও দু’জন ব্যাক্তি প্রতারনার শ^ীকার হয়েছেন। এটা অত্যন্ত দূঃখ জনক। তিনি অপরিচিত প্রতারক থেকে এলাবাসিকে সতর্ক থাকার আহবান জানানোর পাশাপাশি প্রতারক চক্রকে খুজে বের করার জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পালকে নির্দেশ দিয়েছেন।