সৈয়দ নূর-ই আলম ,বেতাগী(বরগুনা)
প্রতিনিধি:
বেতাগীতে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ত্রানের চাল বিতরণসহ একাধিক দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ৫নং বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ফোরকান হাওলাদার এর বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী বাসিন্দা।
এদিকে এলাকার একাধিক লোকের অভিযোগ ইউপি সদস্য ফোরকান এলাকার লোকদের কাছ থেকে ২০০০-৩০০০হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন প্রকার ত্রাণের নাম দিয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রকার ভাতা প্রদানে অগ্রিম উৎকোচ নিয়ে থাকে। এছাড়া জেলেদের নামের ৮০ কেজি চালের ৩০/৪০ কেজি উৎকোচ নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, ইউপি সদস্য ফোরকানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে এবং তিনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাসূত্রে জানা যায়, গত ১৫/৫/২০২০ইং তারিখ রাতে এক জেলের প্রাপ্ত চাল থেকে ৩০ কেজি চাল ঐ ইউপি সদস্যের বোনের বাসায় দিয়ে যেতে বলা হয়। যা ঐ রাতেই বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিদের্শনায় বেতাগী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন। এসময়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সৈয়দ গোলাম রব(শুক্কুর মীর) উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যান জেলের বউকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ইউপি সদস্য ফোরকান তার বোনের বাসায় উক্ত প্রাপ্ত চাল থেকে এক বস্তা দিয়ে আসতে বলেন।
এছাড়াও জানা যায়, প্রতিজন অসহায় মানুষ তার নামের বরাদ্দের অর্ধেক চাল পায় বাকি চাল ইউপি সদস্য ফোররকানকে দিতে হয়। পরবর্তীতে সেই চাল বিক্রি করে এবং অনেক সময় নিজের বাসায় নিয়ে যায় ফোরকান । যারা চাল পায় তাদের চালের অর্ধেক রাতের আঁধারে মেম্বারের বোনের বাসা সহ বিভিন্ন নিকট আত্মীয়ের বাসায় রেখে যেতে হয় যদি না রাখা হয় তাহলে পরবর্তিতে তার নাম সহায়তার খাতে থাকবে না বলে ভূক্তভোগীদের জানান ফোরকান।
সেকান্দার ও জরিনা নামের দুই ভূক্তভোগী জানান তাদের কাছ থেকে রেশন কার্ডে নাম দেয়ার কথা বলে দুই হাজার টাকা নিয়েছেন এবং ভিজিডি নামের কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন কিন্তু কোন ধরনের সহায়তা তাদের দেয়া হয়নি।
এসব ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোঃ ফোরকান বলেন, এলাকার একটি কুচক্রিমহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব করছেন। আমি এসব কর্মকান্ডের সাথে কোনভাবে জড়িত নেই।
এ ব্যাপারে বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সৈয়দ গোলাম রব(শুক্কুর মীর) বলেন, ইউপি সদস্য ফোরকানের বিরুদ্ধে একাধিক স্বাক্ষ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। জনপ্রতিনিধি কর্তৃক এ ধরনের কাজের আমি তীব্র নিন্দা জানাই ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সকল পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব আহসান এ ব্যাপারে বলেন, উক্ত বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।