• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নথুল্লাবাদ কস্তূরী রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে ৯ ক্রেতা অসুস্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ২, ২০২০, ০৫:২১ পূর্বাহ্ণ
নথুল্লাবাদ কস্তূরী রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে ৯ ক্রেতা অসুস্থ

 

বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কস্তুরী রেস্তোরাঁ মেয়াদোত্তীর্ণ কোমল পানীয় পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৯ ক্রেতা।
ঘটনাটি গতকাল সোমবার (০১ জুন) রাত ৮টার দিকে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন অভিজাত কস্তুরী রেস্তোরাঁয় ঘটেছে। এ নিয়ে ক্রেতাসহ জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন অভিযোগে পিছু ছাড়ছে না নগরীর নথুল্লাবাদের কস্তূরী রেস্তোরাঁর। মরা মুরগী রান্না করে বিক্রির ঘটনায় নগরজুড়ে আলোরণ সৃষ্টির পরে আবারও নতুন করে সমালোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এবার আলোচিত এই হোটেলের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছে মেয়াদ উত্তীর্ণ কোমল পানীয় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যা পান করে ৯ ব্যক্তি পেটের পীড়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী ক্রেতা নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোডের ওয়ালটন শো-রুমের সার্ভিস ম্যান তাকদির বলেন, রাতে সহকর্মী বেল্লালকে সাথে নিয়ে কস্তূরী রেস্তোরাঁয় নাস্তা করতে যান। এসময় তারা অন্যান্য খাবারের সাথে কোমল পানীয় ‘ডিউ’ অর্ডার করেন। ওই কোমল পানীয় পানের ৫ মিনিটের মধ্যেই তিনি ও বেল্লাল দু’জনেরই পেটে পীড়া শুরু হয়।
এদিকে একইভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ কোমল পানীয় ‘ডিউ’ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়া বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকার বাসিন্দা চাঁন মুন্সির ছেলে আহাদ মুন্সি জানান, রাত ৮টার দিকে তারা সাতজন নাস্তা করার জন্য কস্তুরীতে প্রবেশ করেন। অন্যান্য খাবারের পরে তিনজনেই একটি করে ‘ডিউ’ পান করেন। এর কিছুণের মধ্যেই পেটে পীড়া শুরু হয়।
পরে তারা দেখতে পান হোটেল থেকে পরিবেশন করা ‘ডিউ’ মেয়াদ উত্তীর্ণ। দুই মাস পূর্বে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া ‘ডিউ’ বিক্রি করা হয়েছে তাদের কাছে।
অপরদিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ কোমল পানীয় ‘ডিউ’ পানে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় হোটেলে থাকা অন্যান্য ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এমনকি আশপাশের ব্যবসায়ী এবং পথচারীরাও কস্তূরী রেস্তোরাঁর এমন অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ জানান। পরে অবশ্য ক্রেতাদের কাছে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ঘটনাটি এড়িয়ে যায় হোটেল কর্তৃপ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কস্তূরী রেস্তোরাঁর ম্যানেজার আমিরুল মুন্সি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে বলেন, ‘ডিউ’ মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। অনেক দিন হোটেল বন্ধ থাকায় অসাবধানতার কারণে এমন ভুল হয়েছে। তাই এ নিয়ে খবর প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে মিডিয়া ম্যানেজের চেষ্টাও করেন তিনি।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, লকডাউনের মধ্যেও কস্তূরী রেস্তোরাঁ খোলা ছিলো। দুই মাস হোটেল বন্ধ থাকার যে দাবি তারা তুলেছে সেটা সঠিক নয়। নিজেদের দোষ ঢাকতেই মিথ্যাচার করছে। তাছাড়া ইতিপূর্বেও হোটেলটির বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও অভিযোগ রয়েছে।
তারা বলেন, কিছুদিন পূর্বে কস্তূরী রেস্তোরাঁয় মরা মুরগী বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। যা নিয়ে তখনকার সময় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পর জেলা প্রশাসন থেকে ওই হোটেলে মোবাইল কোর্টের অভিযানও হয়েছে।
কিন্তু এসব কিছুর পরেও অপকর্ম ছাড়ছে না প্রতিষ্ঠানটি। বরং লোক চক্ষুর অন্তরালে কস্তূরী রেস্তোরাঁয় ক্রেতাদের সাথে প্রতারণার পাশাপাশি অনিয়ম চলছেই। তাই এ বিষয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছে সচেতন মহল