৩১ মে রোববার এ্যাজমাসহ নানা রোগ নিয়ে মৃত্যুবরন করেন দৈনিক পরিবর্তন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকের শ্বাশুড়ি নগরীর আমতলার মোড় এলাকার বাসিন্দা নাছিমা বেগম। কিন্তু মৃত্যুর পর পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। করোনা আতংকে সবাই যেন দুরে সরে থাকছে। দাফন কাফনের জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারী বেসরকারী নানা প্রতিষ্ঠানে ধরনা দেয়া হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কেউ। শেষ পর্যন্ত পাশে এসে দাড়ালো বরিশাল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। তাদের কে অবহিত করার পরপরই ওই বাড়িতে ছুটে গেলেন সংগঠনটির একদল সদস্য। লাশ বহন থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত সব কাজ শেষ করলেন মৃত ব্যক্তির পরম আতœীয় রুপে। এভাবে শুধু নগরী নয় গোটা বিভাগে মানবিক এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। যে কারনে নগরীসহ গোটা দক্ষিনাঞ্চলে করোনা আক্রান্ত কিংবা সন্দেহভাজন হয়ে মৃত্যুবরনকারীর পরিবার তথা স্বজনদের আস্থা ও নিশ্চিত ভরসার নাম হয়ে দাড়িয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। দেশের এই ক্রান্তি কালে জীবন ঝুকির শংকায় যখন সমাজের তো দূরের কথা পরিবারের স্বজনরাও দূরে সরে থাকে তখই মানবতার দূত হয়ে অসহায় পরিবারটির পাশে হাজির হয় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। মৃত্যু আতংকে কেউ না আসায় বেওয়ারিশ রুপে পড়ে থাকা মৃতদেহটি পরম যতেœ দাফন কাফনের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করেন প্রতিষ্ঠানটির নিবেদিত একটি টিম। বিনা পারিশ্রমিকে বর্তমান সময়ের অত্যন্ত কঠিন ও আতংকের এ কাজটি হাসি মুখেই করছেন তারা। কখনো নগরী কিংবা নগরীর বাইরে করোনা আতংকে কোন মৃত ব্যক্তির দাফন কাফন হচ্ছে না এমন খবর পাওয়া মাত্রই সে স্থানে হাজির হচ্ছেন অতিমানবীয় এই সংগঠনটি। করোনা সংক্রামনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে করোনা আক্রান্ত হয়ে কিংবা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ২৬ টি মৃতদেহ পরিবহন থেকে শুরু করে দাফন কাফন করেছে তারা। শুধু লাশ দাফনের কাজই নয় করোনা রোগীকে হাসপাতালে পৌছে দেয়া এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসায় কোন ঘাটতি হলে তাও পূরন করছেন মানবতার এই ফেরিওয়ালারা। করোনা যেমনি মানুষের প্রান কেড়ে নিচ্ছে তেমনি কেড়ে নিয়েছে বেঁচে থাকা মানুষ গুলোর সকল মানবতা। করোনা আক্রান্ত সন্তানকে রেখে পালিয়ে যাচ্ছেন বাবা। যমদূত মৃত্যুর ভয়ে মা থাকছেন দূরে সরে। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এমন মানবিক উদ্যোগ ঘুমিয়ে থাকা মানবতাকে একটু হলেও জাগ্রত করবে। ১৯৯৬ সালে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে আতœপ্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। সমাজে সেবা মূলক নানা কাজ করলেও লাশ দাফনের অতীত কোন অভিজ্ঞতাই ছিলো প্রতিষ্ঠানটির। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন ও গাইডলাইন নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতদের লাশ দাফনের কাজে নেমে পরে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল শাখার পরিচালক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ২০০৭ সালে বরিশালে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। বরিশালে তাদের ৩০ জন সদস্য রয়েছে। যারা নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক কাজ করে আসছে। তিনি বলেন আমরা দেখলাম করোনা আক্রান্ত বা সন্দেহজনক কোন ব্যক্তির মৃত হলেই মানবিকতা কোথায় যেন পালিয়ে যায়। মা বাবা থেকে শুরু করে আতœীয় স্বজন কেউ মৃত ব্যক্তির কাছেও আসছে না। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত বরনকারী তো কোন অপরাধ বা পাপ করেন নি। মৃত্যুর পর তার প্রাপ্য মর্যাদা বা সন্মানটুকু তো তাকে দিতে হবে। এমন মানবিকতা থেকেই আমাদের প্রতিষ্ঠান এ কাজে নেমে পড়ে। শুরুতে নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম সংগ্রহ করে কাজ শুরু করি আমরা। পরবর্তীতে প্রশাসন ও বেসরকারী দু একটি সংস্থা তাদের এ কাজে কিছু সহযোগীতা করেছে। যা নিতান্তই অপ্রতুল। তিনি বলেন এখন পর্যন্ত বরিশাল নগরীসহ বিভাগে ২৬ জন করোনা আক্রান্ত ও সন্দেভাজন মৃত ব্যক্তির দাফন কাফন করেছেন তারা। এর মধ্যে ৬ জন সনাতন ধর্মের লোকও রয়েছে। তাদের এ মানবিক কাজ সুষ্ঠু ভাবে করার জন্য ও প্রয়োজন মাফিক সম্প্রসারনের জন্য সরকারী বেসরকারীভাবে সহযোগীতার আবেদন রেখেছেন । উল্লেখ্য করোনা আক্রান্ত হয়ে বা করোনা সন্দেহভাজন কারো মৃত্যু ঘটলে প্রশাসন থেকেই সৎকার ও দাফন কাফনের জন্য তাদের খবর দেয়া হয়। তারপরও প্রয়োজন হলে বরিশাল জর্ডন রোডের বরিশাল শাখায় টেলিফোন ০৪৩১৬৪১৩৫ এবং মোবাইল ০১৮৪৮৩৭৩৫৩৫ ও ০১৮৪৮৩৭৩৫৩৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

