• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নকল মাস্ক সরবরাহকারী কে এই সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ২৪, ২০২০, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
নকল মাস্ক সরবরাহকারী কে এই সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নকল ‘এন৯৫’ মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের’ স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর শারমিন ২০০২ সালে ছাত্রলীগের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের গত কমিটিতে তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক ছিলেন। বর্তমান কমিটিতে কোনো পদ না পেলেও দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নকল ‘এন৯৫’ মাস্ক সরবরাহ করে শারমিন জাহানের মালিকানাধীন অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল নামে প্রতিষ্ঠান।

শারমিন ২০১৬ সালের ৩০ জুন স্কলারশিপ নিয়ে চীনের উহানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে উহানে লকডাউন শুরু হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার শিক্ষা ছুটির মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি।

এর মধ্যে চীনে থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের মার্চে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল নামে সরবরাহকারী নিজের ব্যবসা শুরু করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) জানিয়েছে, অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল চীনের ‘থ্রিএম কোম্পানি’র লোগো বসিয়ে এসব মাস্ক সরবরাহ করে।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় আমরা অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করেছি।

শর্ত অনুযায়ী তাদের যে মাস্ক ও গ্লাভস সরবরাহের কথা ছিল সেগুলো তারা দেয়নি।

অপরাজিতার সঙ্গে বিএসএমএমইউয়ের চুক্তি অটোমেটিক বাতিল হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার তার উত্তর দিয়েছেন অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিন জাহান। তিনি বিষয়টিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন।

অভিযুক্ত সাবেক সেই ছাত্রলীগ নেত্রীর বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে শারমিন জাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নকল মাস্ক সরবরাহ করিনি। এসব প্রোডাক্ট চীন থেকে ইম্পোর্টেড। এগুলোতো আমরা তৈরি করিনি।

আমরা শুধু সাপ্লাই দিচ্ছি। প্রোডাক্ট খারাপ হলে, বিএসএমএমইউ প্রথমবারই আমাদের বলতে পারত। আমরা সেটা যাচাই করে দেখতে পারতাম।’

আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের মোকাবিলা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মামলা যে কেউ করতে পারে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’