শামীম আহমেদ
প্রশাসন থেকে শুরু করে এলাকার সকলেই শুধু দেখছেন তো দেখছেন। দিনের পর দিন অর্ধাহারে, অনাহারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার উপক্রম মোহাম্মদ উলাহর। দুই বছর অন্ধকার সেলে শেকল বন্ধি মোহাম্মদ উলাহ। আহার, ঘুম, টয়লেট, গোসল সবই একস্থানে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সহ অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও আজ পর্যন্ত মোহাম্মদ উলাহ কে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসেননি কোন সংস্থা।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বকুল চন্দ্র কবিরাজ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কারিজুল ইসলাম এবং হিজলা থানায় অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাস এর সাথে যোগাযোগ করে তাকে রক্ষা করার আহবান জানানোর পরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
প্রশাসনের সবাই বিষয়টি শুধু দেখছেন তো দেখছেন। পিতার অভিযোগ নিজ পুত্র শেকলে বন্ধি জানি, চোখে দেখার ক্ষমতা তাঁর নেই। এর আগেও কয়েক দফা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ব্যর্থ এই অসহায় বাবা। তিনি এখন নিরুদ্দেশ- বাড়ি ছাড়া।
পারিবারিক রোষানলের শিকার মোহাম্মদ উলাহ তালুকদার। একটানা দু’বছর থাকছেন ছাগলের খোয়ারে। মোহাম্মদ উলাহ পাগল, অভিযোগ পরিবারের। সরকারি প্রশাসন যন্ত্র, সমাজপতি বা সমাজের মোড়লেরা কিংবা মানবাধিকার সংগঠনের কেউ এগিয়ে আসেনি উদ্ধারে। দু’পায়ে, দু’হাতে শেকলে বাধা, ৪ তালায় আবদ্ধ মোহাম্মদ উলাাহ। এখন একটি মানুষরুপি কঙ্কালসার একটি জীব।
বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া গ্রামের ৮ নং ওয়ার্ডের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অহিদুল আলম তালুকদার পুত্র মোহাম্মদ উলাহ। উচ্চ শিক্ষিত, বিদেশ ভ্রমন করেছেন কয়েকবার। এখন তিনি পাগল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাড়িতে ঢুকতেই সংবাদকর্মীদের প্রথমেই পরিবারের সদস্যদের বাধা প্রদানের মুখামখি হতে হয়। পনবর্তীতে বাধা উপেক্ষা করে মোহাম্মদ উলাহ’র কাছে গিয়ে পৌছাতে হয় সংবাদ কর্মীদের। যেখানে বেধে রাখা হয়েছে মোহাম্মদ উলাহকে । মোহাম্মদ উলাহর ছোট বোন লায়লার অভিযোগ ভাই পাগলামি করে তাই বেধে রাখা হয়েছে। মোহাম্মদ উলাহর অপর ভাই আহাম্মদ উলাহ ফোনে জানায়, ভাই পাগল তাই বেধে রাখা হয়েছে। পাগল না হলে আপন ভাইকে এভাবে বেধে রাখা হয়। মোহাম্মদ উলাহর মা রেবেকা বেগম এর সাথে কথা বলতে চাইলে তাকেও পাওয়া যায়নি। মায়ের সন্ধান দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পিতা অহিদ মাষ্টার রয়েছেন পলাতক। অজ্ঞাতস্থান থেকে অহিদ মাষ্টার ফোনে প্রতিবেদকে বাড়ির বিষয়ে শোনালেন রুপ কথার গল্প। তিনি বলেন আমার ছেলে মোহাম্মদ উলাহকে আগে বাঁচান। এভাবে ছেলেটিকে বন্ধিকরে রাখা হলে মারা যাবে। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় স্থানীয় অনেকের সাথে। অহিদুল মাষ্টার (তালুকদার) পরিবার সম্পর্কে স্থানীয় কেউ কোন মুখ খুলছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে লাভ নেই। এর সমাধান দিতে পারেনি এসপি, থানা পুলিশ, চেয়ারম্যান, মেম্বার এমনকি উপজেলা প্রশাসন। বিষয়টি হিজলা, মুলাদি, মেহেন্দিগঞ্জ, কাজিরহাট সহ বিভিন্ন প্রশাসন জানেন। আলাপ হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোলার সাথে আলাপকালে জানান, বিষয়টি খুবই জাটিল মেম্বার হিসাবে তিনিও মন্তব্য করতে রাজি নন। গুয়াবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদার জানান, ঐ পরিবার সম্পর্কে তার ধারণা নেই।
হিজলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ঢালী জানান, মোহাম্মদ উলাহ পাগল নন। তাকে পাগল সাজানো হয়েছে। আলম মাষ্টারের সম্পত্তি একক ভাবে ভোগ করার জন্য এ নাটক। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান- থানা পুলিশের কাছে গেলে সেখানেও পুলিশ একচোখা দৃষ্টিতে দেখছেন। মোহাম্মদ উলাহকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলে বেড়িয়ে আসবে আসল রহস্য ।
মোহাম্মদ উলাহর ফুপু শুরমা বেগম জানান, বাবার বাড়ি যাওয়ার অধিকার নেই তার। শেকলবন্ধি ছেলেটির কথা বলতে গেলেই কথায় কথায় চলে তারঁ এবং ভাতিজার উপর নির্যাতন। এখন আর ঐ বাড়ির খোজ খবর নেন না। ভাই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অহিদুল আলম তালুকদার বাড়ি ছাড়া, নিরুদ্দেশ। বাড়ি একটি আধা পাকা ঘর রয়েছে, ঐটিও খালি। আর তার ছেলেকে শেকলবন্ধি করে রাখা হয়েছে ছাগলের খোয়াড়ে। এ যে কি অমানবিক-কার কাছে বিচার দেব ?
আমদের সমাজ এবং সমাজ ব্যবস্থায় এর কোন বিহিত ব্যবস্থা নেই ? নেই মোহাম্মদ উলাহর বাঁচার অধিকার ? মোহাম্মদ উলাহকে বাঁচাবে কে ?