জি.এম রিপন,বানারীপাড়া থেকে
বানারীপাড়ায় অস্ত্র ও মাদক সহ গ্রেফতার হওয়া মাদক ব্যবসায়ী সোহেল মোল্লার কাছ থেকে ৩ দিনের রিমান্ডে সিমান্তবর্তী তিন উপজেলার মাদক ব্যাবসয়ীদের বিরুদ্ধে চা ল্যকর তথ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সম্প্রতি র্যাব-৮ এর হাতে অস্ত্র ও মাদক সহ গ্রেফতার হওয়া বাারীপাড়ার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সোহেল মোল্লা ৩ দিনের রিমান্ডে পুলিশের কাছে শিকারোক্তিমূলক এ তথ্য দেন।
এব্যাপারে থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত আড়াইটায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল র্যাব-৮ এর সদস্যরা উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের মহিষাপোতা গ্রামে কাসেম মোল্লার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো.সোহেল মোল্লা (৩৫)কে একটি পিস্তল ও ২৫ পিচ ইয়াবা সহ গ্রেফতার করেণ। এঘটনায় ওই দিনই র্যাব-৮ এর ডিএডি মো.নর ইসলাম বাদী হয়ে সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে বানারীপাড়া থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেণ। থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল এ মামলা দু’টি এস.আই জাকির হোসেন ও এস.আই মঞ্জুরুল হোসেনকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন।
এব্যারপারে অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই জাকির হোসেন যুগান্তরকে জানান, শনিবার সকালে সোহেল মোল্লাকে কোট হাজতে প্রেরণ করার পাশাপাশি তিনি তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেণ। আদালত তার বিরুদ্ধে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেণ। ওই দিন তিনি কোর্ট হাজত থেকে সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বানারীপাড়া থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ রিমান্ডে মাদক ব্যবসায়ী সোহেল মোল্লা বানারীপাড়া ও পাশর্^বর্তী তিন উপজেলার মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে ব্যপক তথ্য দেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই জাকির হোসেন যুগান্তরকে জানান। তবে তদন্তের সার্থে এখনই ওই ব্যাপারে মূখ খুলতে চাইছে না তিনি। এক্ষেত্রে তিনি কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করার পাশাপাশি বানারীপাড়া ও পাশর্^বর্তী তিনটি উপজেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে যুগান্তরকে জানান। তিনি জানান, সব কিছু ঠিক থাকলে তিনি অচিরেই মাকদ কারবারীদের গ্রেফতারের ব্যপারে সফল হতে পারবেন। এছাড়া ৩ দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার সকালে সোহেলকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে বানারীপাড়া ও পার্শবর্তী তিন উপজেলার মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে নাম গোপন রাখার শর্তে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার সিমান্তবর্তী এলাকার গুঠিয়া, নারায়নপুর, হারতা এবং ঝালকাঠী সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন সহ নেছারাবাদ উপজেলার সিনেমাহল এলাকার বেশ কয়েক জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। এছাড়া তারা মাদক আনার ক্ষেত্রে নিরাপদ রুট হিসেবে দেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমার থেকে নৌপথে চট্রগ্রাম হয়ে সড়ক পথে কুমিল্লা ও ব্রাম্মনবাড়ি এলাকার যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেন এবং চাদঁপুর-মুন্সিগঞ্জ থেকে যাত্রীবাহী ল যোগাযোগ ছাড়াও দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বরিশালে আনা গরু, ফল ও সব্জীর ট্রাক সহ নৌপথে চিতলমারী এবং সাক্ষিরা থেকে আনা সজ¦ীর ট্রলারকে বেছে নিয়েছেন। ফলে তারা পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে নির্ভীগ্নে ওই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সঠিক সোর্সের অভাবে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারছেন না বলেও ওই সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছেন।
এব্যাপারে ঝালকাঠী সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা মাসুম সেরওয়ানী যুগান্তরকে জানান, তারা পুলিশকে সঠিক ইনফরমেশন দিলেও তার ইউনিয়নটি ঝালকাঠী সদর থানা থেকে অনেকটা দূরে ও বানারীপাড়া, উজিরপুর ও নেছাড়রাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে সড়ক পথে পুলিশ আসতে অনেকটা বেশি সময় ণেগে যায়। ফলে তার ইউনিয়নের মাদক ব্যবসায়ীরা নির্ভিগ্নে তাদের ব্যবসা চালিয়ে চাচ্ছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি ভোর রাতে তার ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বীরমহল এলাকার বোর্ড স্কুল সংলগ্ন জমিতে কয়েক জন কৃষক তাদের ধান কাটতে ছিলেন। এসময় তারা পাশর্^বর্তী ঝালকাঠী সড়কে ৫/৬ জন মাদক ব্যবসায়ী একটি পিকাব ভ্যান থোকে ৩০/৩৫ মন টমেটো সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে ওই পিকাপ ভ্রানের মধ্য থেকে বেশ কয়েকটি মাদকের কাটুন ও একাধিক বস্তা ফেন্সিডিল নামিয়ে দ্রæত ব্যাটারী চালিত ঘাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে যান। পরে তিনি ওই বিষয়টি জানতে পেরে বানারীপাড়া ও ঝালকাঠী থানার ওসিকে অবহ্নিত করেণ। এব্যাপারে ওই দুই থানার অফিসার ইনচার্জ সার্বিক খোজঁ-খবর নেয়ার পাশাপাশি অচিরেই মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন বলে জানান।
এব্যাপারে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা মাসুম সেরওয়ানী যুগান্তরকে জানান, তার ইউনিয়নের মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশি অভিযানের টের পেলেই পাশর্^বর্তী বানারীপাড়া, উজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার মধ্যে গিয়ে গাঁ ডাকা দেয়। ফলে পুলিশের পক্ষে তার এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে তিনি পাশর্^বর্তী ওই তিন উপজেলার থানা পুলিশের সমন্নয় অভিযান পরিচালনা করার দাবী জানান। এব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল যুগান্তরকে জানান।