• ২৩শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতিবন্ধি স্কুলে চাকুরি দেয়ার নামে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো আ.লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ২৩, ২০২০, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
প্রতিবন্ধি স্কুলে চাকুরি দেয়ার নামে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো আ.লীগ নেতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রতিবন্ধি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের প্রলভনে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান তসলিম নামে এক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত তসলিম রাঙ্গাবালী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত। এঘটনায় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে কোন সুরাহ পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ। এদিকে ঘুষ নেয়া অর্থ ফেরত চাইতে গিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা কর্তৃক নানা হুমকী-ধামকী শিকার হচ্ছে ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে-২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন মিজানুর রহমান তসলিম। ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি দাবী করে চাকরি দেয়ার নামে ৩২ জন প্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৪০-৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তসলিম। কোন কোন প্রার্থীকে অর্থের বিপরিতে জামানত হিসেবে চেক প্রদান করা হয়েছে। প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী চাকুরি না পেয়ে তসলিমের কাছে টাকা ফেরত চাইলে হামকী-ধামকী দেয়া হয়। এঘটনায় ভুক্তভোগীরা সম্মিলিত হয়ে তসলিমকে আটক করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামানের কাছে নিয়ে গেলেও হয়নি কোন সুরাহ। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান বলেন-গত ১৮ আগষ্ট ভুক্তভোগীরা তসলিমকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ে আসছিল। সেখানে তসলিম তাদের অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রæতি দিলেও এখন আমার বিরুদ্ধে মারধোরের অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা তসলিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন-আমার কাছে টাকা পেলে তা দেবো। কিন্তু আমাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে মারধোর করা হয়েছে। টাকা পাইলে টাকা দেবো। কিন্তু হামলার বিচার চাই।

ভুক্তভোগী মোসাঃ আনিকা বলেন, ‘প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেয় তসলিম। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের যে খসড়া তালিকায় শিক্ষকের বদলে আয়ার নাম দেয়া হয়েছে। এঘটনায় অনিকা প্রতিবাদ জানালে তসলিম আরো দুই লাখ টাকা দাবী করে। অনিকা ওই একলাখ টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকী দিয়ে কেটে পরে তসলিম। ভুক্তভোগী মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৯ মাস আগে তার কাছ থেকে দেড় টাকা নেয় তসলিম। চাকুরি দেয়া তো দুরের কথা টাকা ফেরত চাইতে গেলে হাত কেটে দেয়াসহ অশ্লীল ভাষার শিকার হতে হয় সিরাজকে। একই ভাবে মোসাঃ শীলা জানান, সাত মাস পূর্বে প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরির নামে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয় তসলিম। চাকুরি না পেয়ে টাকা চাইলে হুমকী-ধামকী দেয়া হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দেয় তিনি।

একই ভাবে অহিদুল ইসলামের কাছ থেকে এক লাখ, মোঃ আনোয়ারের কাছ থেকে ৫৫ হাজার, মোঃ আতাউল সরদারের কাছ থেকে এক লাখ, মো.মাসুদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার, মো.শাকিলের কাছ থেকে ১৭ হাজার, মো. আসাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার, রাকিব মাহমুদের কাছ থেকে ৮০ হাজার, সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার ও আল-মামুনের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকাসহ অন্তত ৩২ জনের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।

এব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাশফাকুর রহমান বলেন, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি ইউএনও। কিন্তু মিজানুর রহমান তসলিম সভাপতি দাবী করে চাকুরি দেয়ার নামে অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তা ছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত নয়,তাই কোন নিয়োগই বৈধ নয়।##