বরিশালের বাকেরগঞ্জে আ’লীগ নেতাকে কুপিয়ে ও রগ কেটে দেওয়ার জেরে বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা মেম্বর জহিরুল হক মামুন কে কুপিয়ে চোখ উৎপাটনের চেষ্টা চালিয়েছে স্থানীয় জনতা।
গত বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট বিকেল চারটায় উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর আশঙ্কাজনক হলে তাদের ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম।
হামলায় আহত আ’লীগ নেতা আব্দুল বারেক মোল্লা ভাতসালা গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে ও ফরিদপুরের ৫ নং ওয়ার্ডের আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক মেম্বার।
জনতার গণধোলাইয়ের শিকার জহিরুল হক মামুন (ওরফে হাত কাটা মামুন) একই এলাকার মালেক হাওলাদারের ছেলে ও ৩ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ও বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা এবং ধর্ষণ, গুম, অস্ত্র, চাঁদাবাজিরসহ বাকেরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
বর্তমানে আ’লীগ নেতা আব্দুল বারেক মোল্লা এবং জনতার গণধোলাইয়ের শিকার মেম্বার মামুন কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেবাচিম থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
হামলার আঘাতে আব্দুল বারেক মোল্লার দু,পা ও হাতের রগ কর্তন হয়েছে। তাছাড়া সারা শরীর তার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়। তবে শরীরে থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। কয়েক ব্যাগ ব্লাড তার শরিরে দেয়া লাগবে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এদিকে জনতার গণধোলাইয়ের আঘাতে মেম্বর মামুন ওরফে হাত কাটা মামুনের বাম হাতের রগ কর্তন হয়েছে, তাছাড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার চোখে মারাত্মক জখম হয়। জনতা মামুনের চোখ উৎপাটনের চেষ্টায় তার উপর হামলা চালায়।
স্থানীয় কাকরধা পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ এসআই ফরিদউদ্দিন জানান, ফরিদপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য জহিরুল ইসলাম মামুন স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দিন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামীসহ তার বিরুদ্ধে অন্তত ২০/২২টি মামলা রয়েছে। তার সাথে স্থানীয় একাধীক লোকজনের সাথে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারেক মোল্লা কে তার বসতঘরে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে মামুন ও তার লোকজন।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ধাওয়া করে মামুনকে ধরে গণধোলাই দেয়। এসময় উত্তেজিত জনতা মামুনের দুটি চোখ তুলে ফেলার চেষ্টা চালায়।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাত থেকে হাতকাটা মামুন এবং আ.লীগ নেতা বারেক মোল্লা কে তার ঘর থেকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত বারেক মোল্লা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে হাত কাটা মামুন ও তার সহযোগী সুমন, রমজান, বাইজিদ, বাবুর হাওলাদার, মানিক, আবদু মজি সহ একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী আমার ঘরে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরে স্থানীয় ও পুলিশ আমাকে উদ্ধার করেন।
এদিকে আ’লীগ নেতা বারেক মোল্লা কে বসত ঘরে ঢুকে হাত কাটা মামুন ও তার সহযোগীরা কুপিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনায় স্থানীয় জনতা ক্ষুব্দ হয়ে মামুন কে জিওন বাড়ির সামনে গিয়ে কুপিয়ে চোখ উৎপাদনের চেষ্টা চালায়। সেখানে পুলিশ প্রশাসন মামুন কে উদ্ধার করে।।
এলাকাবাসী জানান, মেম্বর মামুন ওরফে হাত কাটা মামুন একজন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী, কিছুদিন পূর্বেও এক নারীকে ধর্ষণ করতে গিয়ে ধরা খেয়ে তার বোন ও দুলা ভাইকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়া এলাকায় হাত কাটা মামুনের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আছে।
এর পূর্বেও এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে মেম্বার মামুনের ডান হাত কেটে দেয়।
এরপর থেকে মামুন- হাত কাটা মামুন হিসেবে পরিচিতি পায়।
আহতের ঘটনায় উভয় পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম