পিরোজপুর নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানা এলাকায় মিলন মিস্ত্রি নামে এক যুবককে হামলা চালিয়ে তার ঘরবাড়ি লুটপাট সহ আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
গত বুধবার ধলহার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঐদিন দুপুর আড়াইটার দিকে প্রথমে মিলনকে হত্যার চেষ্টায় এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়েছে। পরে রাত দশটার দিকে মিলনের বসতঘর লুটপাট চালিয়ে আগুনে পুড়ে দেওয়া হয়।
আহত মিলন ওই গ্রামের জ্ঞানেন্দ্র মিস্ত্রির ছেলে।
বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্তরা হলো, প্রফুল্ল মজুমদারের ছেলে রাধেশ্যাম, সৌরভ, প্রদীপসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রাধেশ্যাম আহত মিলন মিস্ত্রির ভগ্নিপতি।
আহত মিলন জানান, দীর্ঘদিন ধরে মিলন মিস্ত্রি, র বিরোধপূর্ণ একখণ্ড জমি নিয়ে বঙ্কিম মিস্ত্রির ছেলে বিজয় মিস্ত্রি এবং তাদের সহযোগী সবুজ দিলীপ রানাদের বিরোধ ও মামলা চলে আসছে। দীর্ঘ বছর মামলা চালানোর পর আদালত মিলন মিস্ত্রির পক্ষে রায় দেয়।
গত মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর মিলন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রশাসনকে নিয়ে ওই জমিতে ভোগ দখলে যায়।
এতে বিজয় মিস্ত্রি ও তার সহযোগীরা একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। ওই জমি দখল করতে মিলন মিস্ত্রির ভগ্নিপতি রাধেশ্যাম কে মোটা অংকের লোভ দেখিয়ে বিজয় মিস্ত্রি হাত করে নেয় এবং মিলনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
মিলন জানান, প্রথমে রধেশ্যম সহ অন্যান্যরা তার মোটরসাইকেল ও মোবাইল মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে পরের দিন অর্থাৎ বুধবার ওই মোটরসাইকেল মোবাইল টাকা ফেরত দিতে নাটকীয় ভাবে মিলন মিস্ত্রি কে বাসায় ডেকে নিয়ে যায় রাধেশ্যাম ও তাদের সহযোগীরা।
দুপুর আড়াইটার দিকে রাধেশ্যাম সৌরভ, প্রদীপ, সহ অজ্ঞাত নামারা হত্যার উদ্দেশ্যে মিলনের পর হামলা চালায়।
তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করলে মিলন অজ্ঞান হয়ে পড়ে। রাধেশ্যাম সহ অন্যান্যরা মিলনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
স্থানীয়রা তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে মিলনের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
মিলন আরো জানান, ভগ্নিপতি রাধেশ্যাম দীর্ঘদিন ধরে তার নামে জমি লিখে দিতে শ্যালক মিলন ও শ্বশুর এবং শাশুড়ির উপর জুলুম অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়ে আসছে।
পরিবারের মধ্যে মিলন একা থাকাই সব সম্পত্তি তার হওয়ার কারণে রাধেশ্যাম জমি দখলের চেষ্টা করে আছে। পাশাপাশি মিলনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
মিলন দের একখণ্ড জমি নিয়ে বিজয় দিলীপ রানা সবুজ দের মামলা চলার পর আদালত মিলন দের পক্ষে রায় দেয়।
তখন প্রতিপক্ষ বিজয় মিস্ত্রী ও তাদের সহযোগীরা রাধেশ্যাম কে বড় ধরনের লোভ দেখিয়ে মিলনকে হত্যার চেষ্টায় হামলা চালায়। পাশাপাশি বিজয় দিলীপ রানা সবুজদের নেতৃত্বে রাধেশ্যাম সহ অন্যান্যরা সপরিবারে হত্যার চেষ্টায় ঘরবাড়ি লুটপাটসহ আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ আবিদ মোহাম্মদ হোসেন জানান, অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।