বরগুনার আমতলী উপজেলায় হত্যা মামলার আসামিদের জামিন না দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করায় বাদীসহ তার পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়েছে আসামি পক্ষের সন্ত্রাসীরা। গত বুধবার সকাল ১১ টায় উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়ার উত্তর গোপখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো, সন্ত্রাসীদের কোপে নিহত সুলতান গাজীর ছেলে পান্না গাজী, পনু গাজী,চন্নু গাজী, জলিল খা ও তাদের পুত্রবধূ খাদিজা বেগম, হনুফা বেগম, স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলীতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে পান্না ও চন্নুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে অবস্থার অবনতি হলে যেকোনো সময় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। আহত চন্নু গাজী জানান, উত্তর গোপখালী গ্রামে জমি বিরোধের জের ধরে গত মাসের ৬ আগস্ট একই এলাকার ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী মাজেদ খানের ছেলে আইয়ুব মাল, মোশারেপ, হাবিব, শাহীন, ইউনুস মোল্লা, খালেক মাল, সাইদুল ফকির সহ অজ্ঞাতনামারা পরিকল্পিতভাবে সুলতান গাজীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। ওই ঘটনায় পরেরদিন পনু গাজী বাদী হয়ে আইয়ুব মাল সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পর আসামি পক্ষের সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে বাদীসহ তার পরিবারকে বিভিন্ন ভয়-ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মামলায় গত মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত আসামি আইয়ুব মাল, মোশারেফ, হাবিব, তৈয়ব, শাহিন বরগুনা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। জেলহাজতে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের সহযোগী সন্ত্রাসীরা ঘটনার দিন বুধবার সকাল ১১ টায় বাদীসহ তার পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে আসামি মোশারফ এর ছেলে বেলাল গাজী,এবং নয়া তালুকদার, মাসুম তালুকদার, রাসেল গাজী মহিবুল মালসহ অজ্ঞাত নামা ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী হত্যার চেষ্টায় বাদী পনু গাজীরকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। তাকে বাঁচাতে পান্না গাজী, জলিল, চন্নু গাজি,হনুফা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা,খাদিজা বেগম,আসলে তাদেরকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে বিল্লাল গাজী সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে আহতের স্বজনরা জানান।