নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় হারুন সরদারসহ একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে গরুর ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।
এ সময় তারা স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় কাঠালিয়া থানার বলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো, মৃত আবদুর রশিদ সরদারের ছেলে হারুন সরদার ও তার ছেলে শহিদুল ইসলাম, মনির, ছোট ভাই হালিম সর্দার, কবির সর্দার, নাসির সর্দার এবং তাদের স্বজন শাহীন।
এদের মধ্যে গুরুতর হারুন, হালিম, কবিরকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যান্যরা আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত হারুন সর্দার জানান, দীর্ঘদিন ধরে হারুন সর্দার ও তাদের পরিবারের সাথে জমি নিয়ে প্রতিবেশী মৃত কেরামত সরদারের ছেলে জব্বার সরদার ও তাদের গংদের বিরোধ চলে আসছে।
জব্বার সরদার ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীরা জমি দখল করতে হারুন সরদার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর বিভিন্ন জুলুম অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়ে আসছে।
এছাড়া ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে হারুন সরদার ও তাদের গংদের বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
বিষয়টি নিয়ে হারুন সরদার ও তাদের পরিবারের সহযোগীরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে জব্বার ও তাদের সহযোগীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
তাছাড়া প্রায় সময় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হারুন ও তাদের পরিবারকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি সব প্রাণনাশের হুমকি দেয় জব্বার গং।
গত বৃহস্পতিবার জব্বার সরদার ও তার ছেলে উজ্জল, সুলাইমান, মেয়ে শিমু বেগম, স্ত্রী রানী বেগম এবং তাদের সহযোগী মিজান, সরদার, জুয়েল সরদার, বাবুল, জাহাঙ্গীর সহ অজ্ঞাত নামা ২০-২৫ জনের একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে হারুন সরদার ও তাদের পরিবারের বসতবাড়ির জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
এ সময় হারুন সরদার, হালিম, কবির, নাসির, শহিদুল, মনির, শাহীন, বাধা দিলে জব্বার সরদার সহ অন্যান্যরা হত্যার চেষ্টায় তাদের উপর হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হারুন সরদারকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দেয় এবং রক্তাক্ত জখম করে। হারুন কে বাঁচাতে হালিম সহ অন্যান্যরা আসলে তাদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন জব্বার সরদার সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয় ও পরিবারের সহযোগীরা আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন,
সেখানে হারুন, হালিম, কবিরের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক তাদেরকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এদের মধ্যে হারুন সরদার এর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।।
তবে অবস্থার অবনতি হলে যেকোনো সময় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রেরণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এদিকে ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে জব্বার, উজ্জ্বল, সোলায়মান, শিমু, রানী, নাটকীয় কায়দায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে আহতদের স্বজন সেলিম সরদার জানান।
এ বিষয়ে কাঠালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ এর মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।