নিজেস্ব প্রতিবেদক
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাকেরগঞ্জে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব। প্রতিদিনই স্থানীয় জেলেরা নদীতে জাল ফেলে ইলিশ নিধন চালাচ্ছে। উপজেলার নদী গুলোতে অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছে মা ইলিশ নিধন। স্থানীয় হাট-বাজারে কিছুটা গোপনে বিক্রি হলেও নদীর চরে প্রকাশ্যেই ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও নিষিদ্ধ এই সময়ে মা ইলিশ নিধন বন্ধ হচ্ছে না। জেলেদেও পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠছে, উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নে ইলিশ জেলে না থাকলেও ওই সব ইউনিয়নে সাধারণ জেলেরাও সমান ভাবে পাচ্ছে সরকারি খাদ্য সহায়তা। যার ফলে খাদ্য সহায়তা পরিমানে কম হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ইলিশ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানা যায়, প্রজনন মৌসুম হিসেবে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ শিকার, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। এই সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকারি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে জেলেদের। ইতি মধ্যে উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের ৩৭৬৯ জন জেলেকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু করছে যা প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। তার পরও থেমে নেই জেলেদের মাছ ধরা। এক দিক দিয়ে প্রাসনের লোকজন অভিযান চালাচ্ছে, তো অন্য দিক দিয়ে মাছ শিকার করছে জেলেরা। উপজেলার বিভিন্ন নদীতে দিনরাত মাছ শিকার করছে জেলেরা। শত শত নৌকা ও ট্রলার দিয়ে নদীতে মাছ শিকার যেন এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ সময় কম দামে ইলিশ কিনতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে ভিড় জমাচ্ছে। প্রসানের নজর এড়াতে বিশেষ কায়দায় ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছে ক্রেতারা। মাত্র এক হাজার টাকায় মিলছে এক হালি ইলিশ, যা কয়েক দিন পরই বাজারে বিক্রি হবে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকায়।
সোম,মঙ্গলবার,বুধ ও বৃহস্পতিবার সরোজমিনে গিয়ে উপজলোর পান্ডব, তুলাতলী, পায়রা, কারখানা, গোমা, রাঙ্গাবালিয়া নদীতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা জাল ফেলে ইলিশ ধরছে। নৌকায় কিছু ইলিশ জমলেই জেলেরা নিয়ে আসছে বিক্রির জন্য। মাছ বিক্রি শেষ হলেই আবার ছুটে যাচ্ছে নদীতে। নদী তীরবর্তী চরে বসেই বেশির ভাগ ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে। অনেকে মোবাইলের মাধ্যেমেও ইলিশ বেচাকেনা চালিয়ে যাচ্ছে।
দুধাল গ্রামের মনির হাওলাদার বলেন, ‘সকাল থেকেই ইলিশ ধরা শুরু করে গভির রাত পর্যন্ত চালিয়ে যায়। প্রশাসনের নজরদারি কম থাকায় অন্য সময়ের মতই ইলিশ শিকার করছে তারা।’
স্থানীয় এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘উপজেলার মৎস্য অফিস প্রায় ৪ হাজার জেলে কে সরাকরী খাদ্য সহয়তা দিচ্ছে এর মধ্যে দুই’শ জেলেও নেই যারা ইলিশ শিকার করে তার পরেও তারও সমান সুবিদা নিচ্ছে। আর আমরা ইলিশ শিকার বন্ধ রাখি আর যার সুযোগ নেয় তারা। তাই বাধ্য হয়ে আমরাও প্রশাসনের লোকজনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ শিকার করি। ভরা মৌসুমে মাছ ধরতে না পারলে সারা বছরের লোকসান পোষাতে পারব না। তাই ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকার করছি।’
স্থানীয় কামরুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ‘পুলিশের নজর এড়িয়ে মাছ বেচাকেনা করতে হয়। সরকারের দেওয়া খাদ্য সহায়তা পাইনা। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদেই মাছ শিকার করছি।’
জনবল সংকট থাকায় অভিযানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে স্বীকার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এর মধ্যে একজনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক হাজার টাকা জরিমানা ও একটি মাছ ধরা ট্রালার আটক করি। এছাড়াও নিয়ামতি নৌপুলিশ ইলিশ শিকার করার অপরাদে ২ জন জেলেকে আটক করে তাদের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেয়। উপজেলায় ৩৭৬৯ জেলেকে সরকারি খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে তারা সবাই ইলিশ জেলে কিনা জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেনি।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় জানান, কলসকাঠী ইউনিয়নে উপনির্বাচন চলার কারণে অভিযানে কিছুটা বিগ্ন ঘটছে। এখন থেকে নিয়মিত অভিযান চলছে ইতি মধ্যে কয়েক জনকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।