• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থানা পুলিশের নিরবতায় ভাংচুর-লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২০, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
থানা পুলিশের নিরবতায় ভাংচুর-লুটপাটের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেশীয় অস্ত্রের ভীতি ছড়িয়ে ভাংচুর,হামলা ও লুটপাট শুরু করে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি লাঠিয়াল বাহিনী। বসতঘর রক্ষায় সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ ক্যাম্পে চলে ভুক্তভোগীদের দিকব্দিক ছোটাছুটি। স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিবির আস্কারা ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের নিরবতায় টানা ৬ ঘন্টা তান্ডব চালিয়ে শিশু-বৃদ্ধাসহ পরিবারের ৬ জনকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়া হয়। এই ভাংচুর-লুটপাটের ৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট থানার এসআই মিজানুর রহমান ওসির বরাত দিয়ে ভুক্তভোগীদের ঘরে তালা দিতে গিয়ে তোপের মুখে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। এঘটনায় ভুক্তভোগীরা দ্রæত বিচার আইনে মামলাও করেছেন। কিন্তু মুল ঘটনা আড়াল করে মামলায় প্রতিবেদন দেয়ার পাশাপাশি উচ্ছেদ করা ওই পরিবারটির বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে একটি পাল্টা মামলাও। ন্যায় বিচার তো দূরের কথা,মিথ্যা হয়রানীর আতংকে র্দীঘ আড়াই মাস খোলা আকাশের নিচে যত্রতত্র দিন কাটাচ্ছে তিন শিশুকে নিয়ে। এছাড়াও উল্লেখিত ঘটনায় আইজিপিসহ উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হলেও কোন ফল হয়নি। রোববার দুপুরে এমন অভিযোগে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগীর মেয়ে নবম শ্রেনীর শিশু শিক্ষার্থী লিজা।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন-ওরা হলো ভাই ভাই। জমিটা হলো খাস ল্যান্ড। পুলিশ পাঠাইছিলাম। এটা স্থানীয় ও পারিবরিক ভাবে ফয়সালা করার কথা ছিল। ল্যান্ডের বিষয়ে পুলিশের কিছু করার থাকেনা। প্রকাশ্যে বসতঘর ভাংচুরের বিষয়ে তিনি বলেন-এটাও পারিবারিক। ওখানে দুই পক্ষ‘ই জমি পাবে। তাছারা ওই জমিতে তাদের কোন বৈধতা নাই। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী জোনের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন-পাউবোর কাছ থেকে ইজারা নিয়ে জমি ভোগদখল করছে এবং যেহেতু পাউবোর তাদের কোন উচ্ছেদ নোটিশ দেয়নি। তাই মানবিক কারনে তাদের অগ্রাধিকার রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ-২০১৪ থেকে পাউবোর জমি ইজারা নিয়ে ঘর উঠিয়ে বসবাস করছে জাফর মালের পরিবার ও তার ভাই ইউছুফ। কিন্তু উক্ত জমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করতে জনৈক খলিল মাল ও জিয়া মাল গং নানা অপকৌশল চালায়। ১৪ আগষ্ট গলাচিপা থানার ওসির বরাত দিয়ে তাদের ঘরে তালা দিতে যায় এসআই মিজান। ভুক্তভোগীরা আন্দাজ করতে পেরে ১৬ আগষ্ট গলাচিপা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন(মামলা নং-১৮৭/২০২০)। আদালতে মামলার রেষে ক্ষিপ্ত হয় প্রতিপক্ষরা। ১৯ আগষ্ট বেলা ১১টার দিকে অর্ধ শতাধিকের একটি বাহিনী অস্ত্রের তান্ডব চালিয়ে বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। প্রায় ৬ ঘটনায় তান্ডবের ঘটনায় শেষ বিকালে জাফর মাল ও তার স্ত্রী নারগিস বেগম, স্কুলে পড়–য়া আট বছরের ছেলে মাহফুজ, সুরাইয়া(১৩) ও লিজা(১৫) এবং বৃদ্ধকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়া হয়। এসময় ভুক্তভোগীরা উলানিয়া পুলিশ ক্যাম্পে গেলে পুলিশ কোন সহযোগীতা করেনি। পরে গলাচিপা থানার ওসি মনিরুল ইসলামকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেনি। পরে জেলা পুলিশের এক উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে কল দেয়া হলে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় যেতে বলেন। এসময় ভুক্তভোগী পরিবারটি গলচিপা থানায় গেলে ওসি মনির পূনরায় উলানিয়া পুলিশ ক্যাম্পে যেতে বলেন। পরবর্তীতে ওজোর-আপত্তি করে উলানিয়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মনির ঘটনাস্থলে আসলেও কোন ব্যবস্থা না নিয়ে চলে যায়। এসময় ভুক্তভোগীরা নিরবতার কারন যানতে চাইলে এসআই মনির তাদের বলে তারা প্রতিপক্ষরা/হামলাকারীরা)কাজ করছে। এখানে কোন আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়নি। আমি কি করবো। ভুক্তভোগী নারগিস আরো বলেন-হামলার ঘটনার পূর্বে বেশ কয়েকবার গলাচিপা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম তার কক্ষে তার স্বামী জাফরকে নিয়ে ওই জমির অর্ধেক খলিল মালকে ছেরে দিতে বলেন। এসময় জাফর ওসির প্রস্তাবে আপত্তি জানালে-ওসি মনির বলেন-ওসির-উপজেলার চেয়ারম্যান তোমার পক্ষে না থাকলে তুমি জমি রক্ষা করতে পারবা? এর পূর্বে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ্সহ উল্লেখিত জমি ছেরে দিতে নানা ভাবে চাপ দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগীদের আরো অভিযোগ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ একটি প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় ওসি ও মামলার তদন্তকারী অফিসার আমাদের বিপক্ষে কাজ করছে। মামলা আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া তো দুরের কথা, তাদের নিয়ে মটরসাইকেলে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে এসআই মিজান। ভুক্তভোগী নারগিস বেগম বাদী হয়ে গলাচিপা আদালতে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে দ্রæত বিচার আইনে মামলা করা হলে আদালত সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার নিতে বলেন। এদিকে প্রতিপক্ষ সেলিমের স্ত্রী রুমা বেগম বাদী হয়ে ৩১ আগষ্ট গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। এ প্রসঙ্গে উলানিয়া ক্যম্পের দায়িত্বরত পুলিশের এসআই মনির উজ্জামান বলেন-আমি ঘটনা সময় মামলা তদন্তে অন্য এলাকায় ছিলাম। তাছাড়াও আমাকে কেউ অভিযোগ দেয়নি। ওসি স্যারে ফোনে ঘটনাস্থলে যাই। ততক্ষনে অভিযুক্তরা ঘর উঠিয়ে নিয়েছে। ওরা আগেই ঘরের ফ্রেম তৈরী করে স্থানে বসিয়ে দিয়েছে তাই বাঁধা দেয়া সম্ভব হয়নি। এঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত ০১৭১৬৬৬৬৬৩৭ নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।