• ২২শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরকাউয়ায় শ্রমিক ইউনিয়নের কাছে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৩, ২০২০, ১২:০০ অপরাহ্ণ
চরকাউয়ায় শ্রমিক ইউনিয়নের কাছে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া বাস মালিক সমিতি ও সাধারন যাত্রীরা জিম্মি হয়ে আছে নিবন্ধনহীন বেপরোয়া চরকাউয়া বাস শ্রমিক ইউনিয়নের কাছে। ক্ষমতার অপব্যাবহার করে আদালতে মামলা চলা সত্তে¡ও একজনের গাড়ি অন্যজনকে দখলে দিয়ে ফায়দা লুটছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে। বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর ওপারে প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার মানুষ বাসে যাতায়াত করে। চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে গোমা, নেহালগঞ্জ, কাটাদিয়া, সাহেবের হাট, লাহারহাট সহ ৭টি রুটে গড়ে ৬০টি বাস যাতায়াত করে। তবে এসব অধিকাংশ গাড়ীরই নেই সঠিক কাগজপত্র বা ফিটনেস। ডিজিটাল নাম্বার প্লেট নেই বেশীরভাগ গাড়ির। ফিটসেন খারাপ থাকায় প্রায়ই ব্রেক ফেল হয়ে ঘটছে দূর্ঘটনা। তার উপরে যাত্রীদের সাথে শ্রমিক সদস্যরা প্রায়ই করে দুব্যবহার ও লাঞ্ছিত। এ রুটে চলাচল করা বাসের অধিকাংশ শ্রমিকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। ২১০ জন সদস্য নিয়ে নাম মাত্র শ্রমিক ইউনিয়ন চালালেও গত প্রায় ১০ বছর থেকে এখন পর্যন্ত পায়নি শ্রমিক ইউনিয়নের কোন নিবন্ধন।
অপরদিকে চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার খান পরিবহন নামের ২টি বাস যার রেজিষ্টেশন নং-ঢাকা মেট্রো-জ-১১-১৪৯৯ এবং পটুয়াখালী-ব-৯ গাড়ি দুটো নিয়ে ভাই-ভাইয়ের সাথে দন্ডে আদালতে মামলা চললেও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সম্পাদক খোকন সহ বেশ কিছু শ্রমিক মিলে নূরুল ইসলামের প্রতিপক্ষদের তা দখলে দিয়ে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েক নেতা দুই লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে নুরুল ইসলামের প্রতিপক্ষকে গাড়ি দিয়ে দেয়। এ ঘটনার জের ধরে শ্রমিকরা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম কে লাঞ্ছিতও করে। এ ব্যাপারে চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, খান পরিবহন বাস ২টি নুরুল ইসলাম বিগত দিন থেকে পরিচালনা করে আসছে। পরে শুনলাম তার বাবার ও একটি গাড়ি আছে তবে এটা তাদের পারিবারিক বিষয়। এটা মালিক সমিতির কোন বিষয় নয়। এ নিয়ে মামলা চলায় কোন মন্তব্য করা উচিত নয়।
এ ব্যাপারে খান পরিবহনের মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, আমার ৬ ভাই মা বোনরা মিলে আমার গাড়ি ২টা কেড়ে নিয়েছে। এটা নিয়ে আদালতের সরনাপন্ন হয়েছি, আদালত যে সিদ্ধান্ত নিবে তাই মেনে নিবো। তবে শ্রমিক ইউনিয়নের কথিত এই লোক গুলো প্রকাশ্যে কেনো তাদের পক্ষ করে বুঝলাম না। কোঠা কেনা আমার, গাড়ি আমার সঠিক কাগজ আমার কাছে তবে ক্যাশ কেনো তারা নেবে?
এ ব্যাপারে নিবন্ধনহীন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক খোকন মজুমদার বলেন, তারা আবদেন করেছেন কিন্তু এখনও নিবন্ধন পান নি। বাস আটকে রাখার বিষয়ে জানান, আমরা শ্রমিক ইউনিয়ন কারো বাস দখলে রাখিনি বরং নুরুল ইসলামের মা এই বাসের মালিক দাবী করে ক্যাশ নিয়ে যায়। এর আগে এ ঘটনার মিমাংসা করে দেয় মালিক সমিতি। মিমাংসানুযায়ী বাসের আয় উভয় পক্ষ ভাগ করে নেয়ার কথা। কিন্তু দু বছর যাবৎ নুরুল ইসলাম এক তা ভোগ করে। এ ঘটনা জানতে পেরে শ্রমিক ইউনিয়ন টাকা রেখে তা নুরুল ইসলামের মায়ের হাতে তুলে দিচ্ছেন। যেহেতু আগে দু বছর নূরুল ইসলাম খেয়েছেন এখন দু বছর নুরুল ইসলামের মা খাবেন। পরে আদালত যাকে সিদ্ধান্ত দিবেন সে নেবেন।