বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে এক স্কুল ছাত্রীকে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় পুলিশ ওমর আল-সাঈদ (১৪), সাহাবউদ্দিন সাগর (৪০) ও মো. হেলালা চৌকিদার (২৫) নামের ৩ জনকে আটক করেন। এর মধ্যে সাহাবউদ্দিন সাগর (৪০) ও মো. হেলালা চৌকিদার (২৫) নামের ২ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রারণ করেন। অন্যজন ওমর আল সাঈদ (১৪) অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রমোশন অফিসারে উপ¯ি’তিতে তার অভিভাবকের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের নীলগঞ্জ গ্রামের মৃত সিকান্দার মোল্লার নাতনি ও সুখিনিলগঞ্জ সরকারি প্রথামিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী জুঁই আক্তার কে বৃহস্পতিবার বিকালে ওই গ্রামের প্রভাবশালী মৃত কবির হোসেন হাওলাদার ছেলে ওমর আল সাঈদ ও শাজাহনা মৃধার ছেলে সাহাবউদ্দিন সাগর মোবাইল চুরির অভিযোগে অমানুষিক নির্যাতন চালায় স্কুলছাত্রী জুঁইর ওপর। তারা নির্যাতনের একপর্যায়ে বসত ঘরে বাথরুমের ভিতরে আটক রেখে মুখে গামছা পেঁচিয়ে গরম পানি ঢেলে জোরপূর্বক মোবাইল চুরির স্বীকারোক্তির ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারন করেন। পরে ¯’ানীয়রা আহত জুঁইকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করেন। জুঁই নলছিটি উপজেলার রাজনগর গ্রামের বশির হাওলাদারের মেয়ে। পড়া-লেখার জন্য নানা বাড়িতে থাকেন।
জুঁই’র বাবা বশির হাওলদার বলেন, মিথ্য অভিযোগ দিয়ে আমার বা”চা মেয়েকে নির্যাতন করছে। আমি এর বিচার দাবী করছি।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম যুগন্তরকে জানান, এ ঘটনায় মামলা হওয়ার ৬-৭ ঘন্টার মধ্যে আমার ৩ জনকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রারণ করছি। তবে একজন আসামী অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রমোশন অফিসারে উপ¯ি’তিতে তার অভিভাবকের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধেও আইনি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।