• ২২শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দুমকিতে কলেজ চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৭, ২০২০, ০২:০৬ পূর্বাহ্ণ
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দুমকিতে কলেজ চালু

দুমকি প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাস (কভিড ১৯) সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যেই সরকারি নির্দেশনা অবজ্ঞা করে পটুয়াখালীর দুমকিতে মুরাদিয়া আজিজ আহম্মেদ কলেজে শুরু হয়েছে একাডেমিক কার্যক্রম। কলেজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য ক্লাস কার্যক্রম হচ্ছে না দাবি করে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ্যাসেমব্লি ক্লাশ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।
সোমবার (১৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার মুরাদিয়া আজিজ আহম্মেদ কলেজের শ্রেণী কক্ষে স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে ঠাসাঠাসি বেঞ্চে বসিয়ে এ্যাসেমব্লি ক্লাশ করা হচ্ছে। এ্যাসেমব্লি ক্লাশে কলেজের ১০/১২জন শিক্ষক পাশাপাশি উপস্থিত রয়েছেন। করোনা ভাইরাস (কভিড ১৯) সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যেই সরকারি নির্র্র্দেশনা ছাড়াই কেন বা কোন উদ্দেশ্যে শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক কলেজে উপস্থিতি ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হলো সে বিষয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কেউই স্পষ্ট করে কোন সদোত্তর দিতে পারেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী জানান, অধ্যক্ষের নির্দেশে গত একসপ্তাহ ধরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আহসানুল কবির বলেন, মূলত: একাদশ শ্রেণীর ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিসহ শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ায় মনোনিবেশ করানোর তাগিদ, অনলাইন ক্লাশ, করোনা ভাইরাস সচেতন করা ইত্যাদি কারনেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এ্যাসেমব্লি ক্লাশে ডাকা হয়েছে। তবে এটা বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নয়। স্বাস্থ্য বিধি না মানা প্রশ্নের জবাবে বলেন, শিক্ষার্থীদের মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশণা দেয়ার পরেও অনেকে মাস্ক আনেনি। স্বাস্থ্য বিধি না মেনে এমন এ্যাসেমব্লি ক্লাশে উপস্থিতিতে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি প্রশ্নের তেমন কোন সদোত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুন নাহার ইয়াসমিন বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে কোন সরকারি নির্দেশনা এখনও আসেনি। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুয়ায়ী অনলাইন ক্লাশ ও এসাইনমেন্ট ক্লাশ চালু রাখার নির্দেশনা আছে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা একযোগে না এসে যে যারমতো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কলেজ অফিসে জমা দেবে। শিক্ষকদের বেলায় যার যেদিন প্রয়োজন সেদিনই আসবেন। একযোগে সকলের উপস্থিত থাকতে হবে এমন কোন নির্দেশনা নেই। আজিজ আহম্মেদ কলেজে যা হচ্ছে তা অনেকটা বাড়াবাড়ি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আল-ইমরান বলেন, কলেজ খোলার এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কলেজে উপস্থিতির কোন অনুমতি বা নির্দেশণা দেয়া হয়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ যা করেছে তা একধরণের খামখেয়ালীপণা। সরকারি নির্দেশনা অগ্রাহ্য করে শিক্ষক-কর্র্মচারি ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।