• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নলছিটির নাচনমহল ইউনিয়নে অতি দরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচি কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত নভেম্বর ২৮, ২০২০, ১৪:৫৭ অপরাহ্ণ
নলছিটির নাচনমহল ইউনিয়নে অতি দরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচি কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

নলছিটি প্রতিনিধি!! করোনার থাবায় গ্রামাঞ্চলে তেমন কোন কাজ নেই। অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এ বিষয়টি ভেবে বর্তমান সরকার এ বছর নভেম্বর মাস থেকেই চালু করেছেন অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে নন-ওয়েজ প্রকল্প ৪০ দিনের কর্মসূচি। এই কাজের আওতায় গ্রামীণ শ্রমিকরা নিজ এলাকায় ৬ঘন্টা কাজ করে ১শ’ ৭৫টাকা বেতন পাবেন। প্রতিটি পর্বের কাজ চলবে ৪০দিন। নলছিটি উপজেলার দু-একটি ইউনিয়ন ছাড়া বাকি সকল ইউনিয়ন এ কাজের জন্য প্রকল্প তৈরি করে গত ২১ নভেম্বর থেকে কাজ শুরু করেছে।
উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নে শুরু হওয়া কর্মসূচি প্রকল্পে নেই নির্ধারিত সংখ্যক শ্রমিক। কাজ চলছে কাগজে কলমে।নাচনমহল ইউনিয়নের প্রকল্প এলাকার লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকল্প এলাকা ঘুরে যার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় নাচনমহল ইউনিয়নের ৩ টি প্রজেক্ট সরোজমিনে গিয়ে ব্যাপক অসঙ্গতি ও অনিয়ম পাওয়া যায়। নাচনমহল কুলকাঠি সড়ক হইতে গবিন্দপুর কালু খানের বাড়ির মাজারের সামনে থেকে চাঁন খানের বাড়ির পাশ দিয়ে খাগড়াখানা মডেল স্কুল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে লেবার সংখ্যা-৫২ জন কিন্তু এই প্রজেক্টে লেবার সর্দার সহ কাজ করছেন -১৩ জন।নাচনমহল সড়কের সেলিম খানের বাড়ি হইতে হাড়দল মল্লিক বাড়ির সামনে দিয়ে ডেবরা মোল্লা বাড়ির ব্রীজ হইয়া টেকেরহাট বাজার পর্যন্ত রাস্তাটিতে সরকারি তালিকাভুক্ত লেবার সংখ্যা-৫২ জন। লেবার সর্দার সহ এই প্রজেক্টে কাজ করছেন ১৪ জন। আজ শনিবার নিয়ম অনুযায়ী কর্মসূচি কাজের ষষ্ঠ দিন চললেও, এই প্রকল্পের লেবার সর্দার এর দৈনিক হাজিরা খাতায় তিন দিন কাজের হাজিরা পাওয়া গেছে। অন্য প্রকল্পটির হলো দক্ষিণ ডেবরা এইচবিবি সড়কের ব্রীজ হইতে মধ্যে ডেবরা জামে মসজিদ হইয়া দক্ষিণ ডেবরা হাজী কালু বাড়ির মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার। এই প্রোজেক্টের লেবার সংখ্যা-৫৩ জন কিন্তু প্রজেক্টে কাজ হয়েছে ২/৩ দিন। স্থানীয় কয়েকজন এর ভাষ্যমতে এই প্রজেক্টে ৭ জন লেবার কাজ করছেন।
কাগজে-কলমে থাকলেও তিনটি প্রকল্পের একটিতেও বাস্তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নেই মহিলা লেবারের উপস্থিতি।
এই ইউনিয়নে প্রতিদিন ১শ’ ৫৭জন শ্রমিক কাজ করার কথা। কিন্তু কাজে আছেন মাত্র ৩৪/৩৫জন।

এই প্রকল্প তিনটি দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন একজন সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্য ও দুইজন পুরুষ ইউপি সদস্য।

এ সম্পর্কে নাচনমহল ইউনিয়নের কর্মসৃজন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মোঃ বদরুল আমীন জানান,প্রতিটি প্রজেক্টে বাস্তবে যে কজন লেবার কাজ করবেন তাদেরই বিল পাবেন এর বাহিরে কোন প্রকার বিল দেয়া হবে না।

এ সম্পর্কে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কুমার খরাতি বলেন, অনিয়ম প্রমাণিত হলে কাজের বাহিরে অতিরিক্ত এক টাকাও কোনো লেবারের বিল দেয়া হবেনা।