• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন বাকেরগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান বাশার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৩, ২০২০, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন বাকেরগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান বাশার

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি-
বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার রফিকুল ইসলামের দুর্ণীতি নিয়ে টেলিভিশনে ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন দুর্গাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার শিকদার। স্থানীয়রা জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দুঃস্থদের বরাদ্দকৃত সরকারি ঘর আত্মসাত করেন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার শিকদারের কামাইপুত খ্যাত মেম্বার রফিক। প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত সরকারি ঘরে মেম্বার রফিক নিজেই বসবাস করছেন। এছাড়া তিনি সরকারি বিভিন্ন সাহায্যের নামে জনপ্রতি ৩-৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। চেয়ারম্যানের আশির্বাদপুষ্ট মেম্বার রফিক স্বজনপ্রীতি করে সাধারণ গরিব অসহায়দের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নে ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, গর্ভবতী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ যেকোন সরকারি অনুদান পেতে হলে চেয়ারম্যান আবুল বাশারকে অফিস খরচ হিসেবে উৎকোচ দিতে হয়। আর অফিস খরচের নামে এসব উৎকোচের টাকা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে উত্তোলন করেন ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার রফিকুল ইসলাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, দুর্গাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার বিগত ৫ বছরে হত দরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের নামে মাত্র কাজ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কেউ তার কাজের প্রতিবাদ জানালে তাকে লাঞ্চিত ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়া হয়। বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে আবুল বাশার ঢাকার ঠাটারি বাজারে দুলাভাইয়ের দোকানে স্বল্প বেতনের কর্মচারি ছিলেন। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে মাত্র কয়েক বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। তিনি নিজেকে এলাকায় আওয়ামী লীগের ডন (সঘোষিত স¤্রাট) বলে পরিচয় দেয়। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে জানান দলের তৃণমুল নেতাকর্মীরা।

ভুক্তভোগিরা আরও জানান, রফিক মেম্বারের ভাই নজরুল ইসলাম খান ও বোন সালমা বেগম ঢাকায় থাকে। ২টি প্রজেক্টে তাদের নাম দিয়ে ২ টি ঘর নির্মাণ করে মেম্বার রফিক নিজেই ওই ঘরে বসবাস করছেন। নির্মাণকৃত ঘর দুটির ঠিকাদার ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার শিকদার নিজেই। এ দুর্ণীতি নিয়ে এশিয়ান টিভিতে সংবাদ প্রকাশ করায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার শিকদার ক্ষুব্ধ হয়ে ১ নভেম্বর মঙ্গলবার পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বেলা ১২ টায় বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি উত্তম কুমার ও তার সাথে থাকা দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি জাকির জমাদ্দারকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে প্রকাশ্যে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। ওই সাংবাদিকদের তার পালিত ক্যাডার বাহিনী দিয়ে মারধর করবেসহ তারা কিভাবে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সাংবাদিকতা করো তা তিনি দেখে নিবেন বলে হুমকি দেয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মানিক হোসেন মোল্লা জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মরহুম সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়াকে খুবই ভালোবাসতেন। তিনি সকল সাংবাদিকদের ¯েœহ করতেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর এই সোনার বাংলায় সাংবাদিকদের কেউ হুমকি দিবে এটা মোটেই কাম্য নয়। সাংবাদিকদের হুমকি দেয়ার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এতে করে বাকেরগঞ্জ উপজেলার সকল সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সকল সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্ণীতিবাজ চেয়ারম্যান আবুল বাশার শিকদারের কঠোর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিসহ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করবেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ প্রেস ক্লাব, রিপোর্টার ইউনিটি, মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, সাংবাদিক ক্লাব, ক্রাইম রির্পোটার্স সোসাইটি, টেলিভিশন সাংবাদিক এসোসিয়েশন, অনলাইন সাংবাদিক পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।