শাহ আলম খান,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ আজ ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম এর যশোরের শার্শা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই দিনটি সকল শহীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী সহ স্থানীয় সুধি সমাজ।
আজকের এই দিনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট থেকে একটি র্যালী বের করে শহীদের রেখে যাওয়া নানা অবদান কথা তুলে ধরেন উপস্থিতি ব্যক্তিবর্গ। এরপর র্যালী টি বেনাপোল কাগজপুকুর শহীদ মিনারে পুষ্প অর্পণ করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানটি মোঃ আজিজুল হক এর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন শেখ কাজিম উদ্দিন।
এসময় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম, মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ চৌধুরী, বন্দর উপ পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান, ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবীব, ৪নং বেনাপোল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বজলুর রহমান, বেনাপোল পৌর সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সহ অনেকে।
এসময় বক্তারা বলেন, শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যাদের আমরা হারিয়েছি স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত। এ ক্ষতি এদেশে অপূরনীয় ক্ষতি, যা কখনো পূরণ হবার নয়। একই সঙ্গে সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রত্যেক শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের স্বজনদের প্রতি, যাঁরা দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে বয়ে চলেছেন আপনজনকে হারানোর বেদনা ও কষ্ট।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতাযুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে হত্যাযজ্ঞের সূচনা করেছিল, একেবারে শেষ দিকে এসে পরাজয়ের আগমুহূর্তে তা রূপ নেয় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তখন তাদের এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এই বাহিনীগুলোর সদস্যরাই বেছে বেছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুদ্ধিজীবীদের উঠিয়ে এনেছিল, তুলে দিয়েছেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে, হত্যা করেছিল জাতির অগ্রণী শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেরাই হত্যাযজ্ঞ সম্পন্ন করেছেন।