বরেণ্য শিক্ষাবিদ, ভাষা সংগ্রামী, অক্সফোর্ড খ্যাত ব্রজমোহন কলেজ’র ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ’র প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান এবং নগরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বরিশাল ইসলামিয়া কলেজ’র প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. ফজলুল হক’র ২৫ তম মৃত্যু বার্ষিকী আগামীকাল। এই স্বনামখ্যাত শিক্ষাবিদ’র স্কুল জীবন কেটেছে গোপালগঞ্জ’এ। লেখাপড়া করেছেন বিখ্যাত উলপুর স্কুলে। এসময় তাঁর ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসার পরম সৌভাগ্য হয়। গোপালগঞ্জ থেকে ১৯৪৮ সালে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক পাশ করেন। বিএম কলেজ’এ উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন (১৯৫০) এই মহান নেতার পরামর্শ ও সহযোগিতায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বাহান্নোর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাহান্নোর ২১ শে ফেব্রæয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সাহসী সংগ্রামে অংশ নেন।পরবর্তীতে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস সহ অনেক লোভনীয় চাকরির সুযোগ থাকলেও ভাষা আন্দোলনের প্রভাবে তিনি তাঁর স্বপ্নের বিদ্যাপীঠে অধ্যাপনার চাকরি বেছে নেন। বিএম কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ১৯৫৭’র গোড়ার দিকে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রেক্ষাপটে একজন সচেতন বাঙালি হিসেবে তিনি তাঁর বিদ্যার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেমের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীকার সংগ্রামের বীজমন্ত্র ছড়িয়ে দেন। তাঁর সেসময়কার ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মহান মুক্তিযুদ্ধর অন্যতম সফল সংগঠক, বাংলাদেশ যুবলীগ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনি, প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের সফল সংগঠক, বাকসু’র সাবেক ভিপি আমির হোসেন আমু, ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক সাবেক ছাত্রনেতা ও ভূতপূর্ব বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ। আজীবন অসা¤প্রদায়িক, প্রগতিমনা, মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন আদর্শবান শিক্ষক হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র নিবেদিত প্রাণ এই শিক্ষক’র মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে এদিন সিটি এলাকাধীন আল-ইখওয়ান এতিম মাদ্রাসায় কোরআান খানি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোয়া-মোনাজাত’র আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর পরিবারবর্গ প্রয়াত শিক্ষাবিদ’র বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে তাঁর বন্ধু, সহকর্মী, বিদ্যার্থী ও গুণগ্রাহীদের প্রার্থনা করার বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।