• ২২শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বানারীপাড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী, পরকীয়া প্রেমিকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২, ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
বানারীপাড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী, পরকীয়া প্রেমিকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট

প্রবাসীর বাড়িতে আলোচিত তিন খুনের ঘটনা

জি.এম রিপন, বানরীপাড়া
বরিশালের বানারীপাড়ায় কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বাড়িতে আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় স্ত্রী মিসকাত জাহান মিশু ও তার পরকীয়া প্রেমিক জিনের বাদশা নির্মান শ্রমিক জাকির হোসেন এবং সহযোগী জুয়েল হাওলাদার’র বিরুদ্ধে ১ বছর ২৩ দিন তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে পুলিশ।
২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার পূর্ব-সলিয়াবাকপুর গ্রামে কুয়েতপ্রবাসী হাফেজ মো.আব্দুর রবের বাড়িতে বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগম, বোন জামাতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শফিকুল আলম ও তার খালাতো ভাই ভ্যান চালক মো. ইউসুফ হোসেনকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার ইন্সেপেক্টর (তদন্ত) মো. জাফর আহম্মেদ বৃহস্পতিবার বরিশাল সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রের্ট আদালতে এ চার্জশীট দাখিল করেণ।
আদালতে দাখিল করা ওই মামলার চার্জশীটে অভিযুক্ত কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের স্ত্রী মিসকাত জাহান মিশু ও তার পরকীয়া প্রেমিক জিনের বাদশা জাকির হোসেন এবং সহযোগী জুয়েল হাওলাদার গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই জেল হাজতে রয়েছে। এছাড়া ওই ঘটনার একদিন পর স্থানীয় বাসিন্দারা আসামীদের ফাঁসির দাবীতে পৌর শহরের বাস স্ট্যান্ডে মানববন্ধন করেছিলেন।
এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার ইন্সেপেক্টর (তদন্ত) মো. জাফর আহম্মেদ জানান, ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার পূর্ব-সলিয়াবাকপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী হাফেজ মো.আব্দুর রবের বাড়িতে স্ত্রী মিসকাত জাহান মিশুর সহায়তায় পরকীয়া প্রেমিক জিনের বাদশা জাকির হোসেন এবং জুয়েল হাওলাদার তার বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগম, বোন জামাতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শফিকুল আলম ও খালাতো ভাই ভ্যান চালক মো. ইউসুফ হোসেনকে মাথায় আজ্ঞাত ও শ্মাশরোধ করে হত্যা করে স্বর্ণালংকার সহ তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
পর দিন সকালে এঘটনার খবর পেয়ে থানা ও বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার সহ উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পাশাপাশি কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের স্ত্রী মিসকাত জাহান মিশুর পরকীয়া প্রেমিক ও ঘাতক জিনের বাদশা নির্মান শ্রমিক জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করেণ। এসময় জাকির হোসেন তাদের কাছে মিশুর সঙ্গে পরোকীয়া প্রেমের কথা জেনে যাওয়া ব্যাক্তিদের হত্যা করার সাথে সরাসরী সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়ে শিকারোক্তি মূলক জবানবন্ধি দেন। সে অনুযায়ী ৭ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ ও র‌্যাব-৮ পৃথক অভিযানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে জাকির হোসেনের সহযোগী জুয়েল হাওলাদারকে গ্রেফতার ও লুন্ঠিত স্বর্ণালংকারসহ ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এর এক দিন পর পূর্ব-সলিয়াবাকপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে প্রবাসীর স্ত্রী মিসকাত জাহান মিশুকে গ্রেফতার করা হয়। এক্ষেত্রে প্রাবাসীর স্ত্রী মিশুর মোবাইল ফোনের কল লিষ্টের সিডিআর সংগ্রহ করে তার কল লিস্টে ঘাতক জাকিরের সঙ্গে অসংখ্য বার কথা বলার প্রমান সহ প্রবাসীর বাড়িতে তিন খুনের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, ওই ঘটনায় পর দিন রাতে কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের ছোট ভাই ঢাকা এন.আর.বি ব্যাংক কর্মকর্তা সুলতান মাহামুদ বাদী হয়ে ঘাতক নির্মান শ্রমিক জাকির হোসেন ও তার সহযোগী জুয়েলকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। থানার তৎকালিন অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল নিজেই এ মামলাটি তদন্ত শুরু করেণ। তদন্তের শুরুতেই তিনি তার সাথে তদন্ত কাজে সহায়তা করে আসছিলেন। তিনি এর কয়েক মাস পর খুলনা শিল্প পুলিশে বদলি হয়ে যাওয়ার কারণে ওই মামলাটির তদন্ত ভার তাকে (ওসি তদন্ত) দেওয়া হয়। দীর্ঘ দিন ধরে তারা দু’জনসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা পৃথক ভাবে ওই মামলাটি তদন্ত করেণ। এসময় তারা জানতে পারেণ, কয়েক বছর পূর্বে নলছিটি উপজেলার করাপুর গ্রামের নির্মান শ্রমিক জিনের বাদশা জাকির হোসেন ও তার সহযোগী বরিশালের করাপুর এলাকার জুয়েল হাওলাদার বানারীপাড়া উপজেলার পূর্ব-সলিয়াবাকপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বাড়িতে অবস্থান করে তার একটি ভবন নির্মান কাজ করে আসছিলেণ। এসময় কুয়েত প্রবাসী স্বামী বাড়িতে না থাকার কারণে তার স্ত্রী মিসকাত জাহান মিশুই ওই নির্মান শ্রমিকদের তিন বেলা খাবার পরিবেশণ থেকে শুরু করে দৈনিক পারিশ্রমিক (টাকা) দিয়ে আসছিলেন। এছাড়া নির্মান শ্রমিক ওই বাড়িতে থেকে মাঝে মধ্যে মধ্য রাতে জিন হাজির করে স্থানীয় নারীদের বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরে এভাবে তারা একে অপরের সাথে থাকার এক পর্যায়ে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। তাদের এবিষয়টি প্রথমে মিশুর বৃদ্ধা শাশুরী মরিয়ম বেগম, ননদ জামাতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুল আলম ও তার খালাতো দেবর ভ্যান চালক মো. ইউসুফ হোসেন’র নজরে আসে। এর পর থেকেই মিশু ও জাকির হোসেন তাদেরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী ঘটনার রাতে মিশু দরর্জা খুলে তার পরকীয়া প্রেমিক জাকির হোসেন ও তার সহযোগী জুয়েল হাওলাদারকে ভবনের মধ্যে প্রবেশ করে এবং একে একে তিন জনকে শ্মাশ রোধ ও মাথায় আজ্ঞাত করে হত্যা করে।
পরে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তিনি ও তৎকালিন তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ ১ বছর ২৩ দিন তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার জড়িত থাকা তিন জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
এবিষয়ে মামলার বাদী ঢাকা এন.আর.বি ব্যাংক কর্মকর্তা সুলতান মাহামুদ জানান, ঘতকরা তার বৃদ্ধা মা ও বোন জামাতা সহ তিন জনকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। তিনি ঘাতকদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান।