বানারীপাড়া প্রতিনিধি
বানারীপাড়ায় জাসদ নেতা সৈয়দ হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার প্রধান আসামী জিয়াউল হক মিন্টু সহ জড়িতদের জামিন বাতিলপূর্বক গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক সাস্তির দাবীতে পরীবারের পক্ষ থেকে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে বানারীপাড়া প্রেসক্লাব ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্তরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বৃদ্ধ মা ফিরোজা বেগম তার বড় ছেলে সৈয়দ হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িতদের জামিন বাতিল পূর্বক গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক সাস্তির দাবী জানান। একই ভাবে মানববন্ধনে বক্তৃতাকালে ওই মামলার বাদী সৈয়দ তরিকুল ইসলাম আপনুর ও স্বাক্ষী মো.জাফর আলী সহ পরীবারের সদস্যরা সৈয়দ হুমায়ুন কব্রি হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত আসামীদের হুমকীর মূখে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেণ।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেণ, নিহত উপজেলা জাসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরের বৃদ্ধ মা ফিরোজা বেগম, বোন আইনুন নেছা, আক্তারুন নেছা, ছোট ভাই ও মামলার বাদী সৈয়দ তরিকুল ইসলাম আপনুর, ভাই সৈয়দ কায়কোবাদ, মামলার প্রতিবেশী স্বাক্ষী মো. জাফর তালুকদার, উপজেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান প্রমূখ।
প্রসংঙ্গত ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই (শুক্রবার) উপজেলা জাসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হুমায়ুন কবির উপজেলার মাদারকাঠী গ্রামের বাড়ি থেকে রোজাদার অবস্থায় চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়ার সময় পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও চাখার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুর মাদরকাঠী বাস স্টান্ডের মার্কেটের নিচতলায় অমানবিক নির্যাতন ও পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত করে। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা ষেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করেণ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। ২০ জানুয়ারী এঘটনায় সৈয়দ হুমায়ুন কবিরের ছোট ভাই সৈয়দ তরিকুল ইসলাম আপনুর বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক ও সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টু সহ ১৩ জনকে নামীয় ও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটি থানার তৎকালিন এস.আই ও বর্তমানে ওসি (তদন্ত) সনজিদ কুমার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৩ অক্টোবর আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেণ। আদালত এ পর্যন্ত ওই মামলার ২৭ জনের স্বাক্ষী গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য থেকে বাদীী তার বড় বোন আক্তারুন নেছার স্বাক্ষী রিকল’র আবেদন করলে আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেণ। বর্তমানে ওই মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।