• ২৩শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উজিরপুরে ফসলের মাঠে যাত্রী ছাউনি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২১, ০৯:১২ পূর্বাহ্ণ
উজিরপুরে ফসলের মাঠে যাত্রী ছাউনি!

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রতন্ত কুড়লিয়া গ্রামে ফসলি জমির মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাত্রী ছাউনি। সরকারের টাকা গচ্চা দিয়ে নিজ বাড়ির প্রবেশ পথে ওই যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন জেলা পরিষদের এক নারী সদস্য। জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে উজিরপুর উপজেলার জল্লা কুড়লিয়া বাজারের দক্ষিণ দিকে রাস্তার পাশে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদিত হয়। জেলা পরিষদের সদস্য ও উজিরপুরের জল্লা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান উর্মিলা বাড়ৈ’র সৌজন্যে তার নিজ গ্রামে ওই যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জল্লা ইউপির কুড়লিয়া জুনিয়র বাজার সংলগ্ন সাতলা-কারফা সড়কের পাশের এই প্রকল্পটি রাস্তা ছাড়িয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিন দিকে ফসলি জমির মধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

স্থানীয় কুড়লিয়া জুনিয়র বাজার থেকে হারতা বাজারে যাতায়াতের জন্য গ্রামের মধ্যকার ফসলি জমি লাগোয়া ইট বিছানো (সলিং) সরু রাস্তার পাশে টিনশেড যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়েছে। যা জেলা পরিষদের নারী সদস্য উর্মিলা বাড়ৈ’র নিজ বাড়ির প্রবেশ পথ । ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি নির্মাণ করেছে ‘মেসার্স মা-বাবার দোয়া ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ওই যাত্রী ছাউনি সাধারণ পথচারী কিংবা স্থানীয়দের কোন উপকারে আসবেনা বরং সরকারকে ধোঁকা দিয়ে উন্নয়নের নামে অর্থ লোপাট করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নরেশ হালদার (৫৩) ও পথচারী পলি জাহানসহ (২৬)সহ অনেকে জানিয়েছেন, ওই যাত্রী ছাউনিটি বাজার অথবা মূল সড়কের পাশে নির্মিত হলে পথচারীরা ও এলাকাবাসী সুবিধা ভোগ করতেন। কিন্তু সেটা না করে ফসলের মাঠে যাত্রী ছাউনি নির্মাণে সরকারের অর্থ অপব্যয় করা হয়েছে। এই যাত্রী ছাউনি কারও উপকারে আসবেনা। এ বিষয়ে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। জেলা পরিষদের নারী সদস্য উর্মিলা বাড়ৈ’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যাত্রী ছাউনির জন্য কেউ জায়গা না দেয়ায় বাজারের মধ্যে ও রাস্তার পাশে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তাই ফসলি মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে।