জি.এম রিপন, বানারীপাড়া
বানারীপাড়ায় শেরে বাংলার স্মৃতি বিজড়িত ঐতিয্যবাহী চাখার ইউনিয়নকে শহরের ন্যায় একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন পরিষদে রূপান্তর করার জন্য দ্বিতীয় বার আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে চান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজের সাবেক জিএস এবং তৃর্ণমূল আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো.খিজির সরদার।
তিনি ১৯৭৮ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জিবিত হয়ে চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজের একাদশ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ২নং সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালাতে গিয়ে বিরোধী দলীয় প্রার্থীর ক্যাডারদের হামলা-মামলার শিকার হয়ে পিরোজপুর কারাগারে হাজতবাস করেণ।
উপজেলা আ’লীগ নেতা ও চাখার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খিজির সরদার জানান, ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় তিনি আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের তৎকালিন রাষ্টপতি প্রার্থী ড.কামাল হোসেনের পক্ষে মিছিল দিতে বরিশালে যান। এসময় তিনি জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়কে বিপির পুকুরের কর্ণারে দাড়িতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ¦ আমির হোসেন আমু (এমপি)’র সাথে কথা বলছিলেন। এসময় তৎকালিন বিএনপি দলীয় ক্যাডারা আমু ভাইকে কটাক্ষ করে কথা বললে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এসময় আমু ভাই পাশর্^বর্তী একটি ফার্মাসীতে প্রবেশ করেন এবং বিএনপি দলীয় ক্যাডারা তাকে ধাওয়া করে হামলা করেণ। খিজির সরদার বিএনপি দলীয় তৎকালিন ক্যাডারদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়ে ৭ দিন ধরে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেণ। ওই সময় তৎকালিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ড.কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহম্মদ এমপি ও আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বরিশাল সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন। এসময় তিনি বিএনপি দলীয় তৎকালিণ ক্যাডারদের হামলার শিকার হয়ে আহত হওয়ার খবর পেয়ে সার্কিট হাউসে অবস্থানকরা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহম্মদ তার চিকিৎসার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দর কাছে ব্যক্তিগত ভাবে ৭’শ টাকা দিয়েছিলেন।
পরে তিনি ১৯৮০-১৯৮১ সালের শিক্ষাবর্ষে চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও র্পাবত্য সান্তিচুক্তির রূপকার (মন্ত্রী পদমর্যাদা) আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি মনোনীত পরিমল-খিজির পরিষদের পূর্ন প্যানেল সহ জিএস নির্বাচিত হন।
পরে তিনি ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষা বর্ষে চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ ছাত্র লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি জাতীয় পার্টির তৎকালিন ক্যাডারদের হামলার শিকার হয়ে ৩ মাস এলাকার বাইরে অবস্থান করেণ এবং ১৯৮৮ সালে তিনি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯০ সালে রাজ পথে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার হামলা-মামলার শিকার হন। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপি নেতাদের হামলা-মামলার শিকার হওয়ার পর ১৯৯২ সালে তিনি চাখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এসময় তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে একই পদে নির্বাচিত থাকেন।
পরে তিনি ১৯৯৮ সলে উপজেলা আওয়ামী লীগের ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ও তার ছোট ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম সরদার আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী একে ফায়জুল হকের পক্ষে প্রচার প্রচারণা করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত ক্যাডারদের হামলা-মামলার শিকার হয়ে আর্থিক ও মানুষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। পরে তিনি ২০১১ সালে চাখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং তার রাজনৈতীক মেধা, মনন ও প্রজ্ঞা দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে সু-সংগঠিত করেন।
এছাড়াও তিনি রাজনৈতিক জীবনে বিগত জাতীয় সংসদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নিরলস ভাবে কাজ করে এসেছেন। ফলে তিনি ২০১৬ সালে ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত চাখার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মোট ৭০৭৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপি দলীয় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহানা পারভীন ৪৬৭ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী দেশে চলমান করোনাকালিন সময় এলাকার অসহায় মানুষের পাষে থেকে স্বাস্থ্য সেবা সাহায্য-সহযোগীতা দেয়ার পাশাপাশি জনসচে সচেতনতা বৃদ্দি করতে জীবনের ঝুকী নিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের চলমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে তার ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি চাখার ইউনিয়নকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়ন পরিষদে রূপান্তর করতে তিনি দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে চান।