জি.এম রিপন,বানারীপাড়া
বানারীপাড়ায় প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ দলীয় ৭ জন প্রার্থীর বাইরে ১৯ জন নেতা সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। এর পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীর সাহেবের দল) ৩ জন ও জাসদ এবং এনপিপির ১ জন করে দলীয় প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ফলে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় কোন প্রার্থী না দিলেও উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দিতা করতে হবে বলে উপজেলার রাজনৈতিক অবিজ্ঞ মহল মনে করছেন। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় অধিপত্ত বিস্তার করার চেষ্টা করছেন।
অপরদিকে উপজেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং অফিসার মো.মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলার সাত ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ৩১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এছাড়া সংরক্ষিত ২১টি ওয়ার্ডে মোট ৭২ জন এবং ৬৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ২৫৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেও ১৯ মার্চ মনোনয়ন বাছাই অনুষ্ঠানে সলিয়াবাকুপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত-১ নং ওয়ার্ডের ১ জন নারী প্রার্থীর মনোনয়ন ত্রুটিপূর্ণ থাকার কারণে বাদ পরেছেন। এছাড়া ২৪ মার্চ মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার ও ২৫ মার্চ প্রতীক বরাদ্ধ দেয়ার পর ১১ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৮ মার্চ বানারীপাড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। এদিন উক্ত সাত ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় ৭ জন প্রার্থী ছাড়াও বিদ্রোহী প্রর্থী হিসেবে ১৯ জন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩ জন এবং জাসদ ও এনপিপির ১ জন করে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এদিন তারা উপজেলার তিন জন রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৃথক ভাবে এ মনোনয়ন দাখিল করেণ। এরা হলেন, বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী দু’বার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল জলিল ঘরামী। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো.আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মু.মুনতাকিম লস্কর কায়েস। চাখার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মো.মজিবুল ইসলাম টুকু। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো.খিজির সরদার ও চাখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক মো.ওয়াহিদুজ্জামান মিলন। এছাড়াও ওই ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নেতা মো.আইয়ুব শিকদার ও এনপিপি চাখার ইউনিয়ন সভাপতি মো.মামুন শিকদার দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।
উদয়কাঠী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক আহবায়ক মো.রাহাদ আহম্মেদ ননী। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ঢাবির স্যার এফ রহমান হলের সাবেক সহ-সভাপতি মো.মামুন উর রশিদ স্বপন তালুকদার, তার মেঝ ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো.মাহাবুবুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক মো.রাসেদুল হাসান মিলন মুন্সি। ইলুহার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ওই ইউনিয়নের দু’বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.শহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস ছালাম মাস্টার ও শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের উপজেলা সভাপতি মো.আবুল বাশার বাদশা। বাইশারী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাষক শ্যামল কুমার চক্রবর্তী। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মো.তাজেম আলী হাওলাদার, সহ-সভাপতি মো.সেলিম সরদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো.সেলিম বেপারী, আওয়ামী লীগ নেতা মো.খায়রুল হাসান, জাসদ নেতা একে আদাজ ও সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দু’জন ইটভাটা ব্যবসায়ী মো.আবুল কালাম হাওলাদার এবং মো. সালাউদ্দিন মিন্টু। সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো.ছিদ্দিকুর রহমান মাস্টার ও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা যুবলীগ নেতা মো.শফিকুল ইসলাম তালুকদার। এছাড়া ওই ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) নেতা কাজী হাফিজুর রহমান দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। বিশারকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক মো.সাইফুল ইসলাম সান্ত। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো.ওমর ফারুক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো.আলাউদ্দিন বাবুল ও মো.জাকির হোসেন বাহাদুর। এছাড়া ওই ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) নেতা মো.মোয়াজ্জেম হোসেন দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন।
এসব চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করার পর থেকে এপর্যন্ত যে যারমত করে মাঠ গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি গ্রাম গঞ্জে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

এদিকে ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীর বাইরে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যপারে এখনই কোন কিছু বলা যাচ্ছে না বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম গোপন রাখার সর্তে জানিয়েছেন। তিনি জানান, এবারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এ উপজেলায় বিএনপি দলীয় কোন প্রার্থী দেয়নী। সেক্ষেত্রে এব্যপারে জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ওই নেতা জানান।
এব্যাপারে ২৪ মার্চের পূর্বেই দলীয় নেতাদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো.ইউনুস জানিয়েছেন।