• ২৩শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বানারীপাড়ায় চিকিৎসক ও আইসিউ সংকট: করোনার ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২১, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বানারীপাড়ায় চিকিৎসক ও আইসিউ সংকট: করোনার ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য খাত

জি.এম রিপন,বানারীপাড়া ঃ
বরিশালের বানারীপাড়ায় চিকিৎসক ও জনবলসহ আইসিউ সংকটের কারণে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য খাত। এক বছর পূর্বের এই দিনে বানারীপাড়ায় করোনা মহামারীর শুরুতেই উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে পরিমান জনবল ছিল বর্তমানে তার অর্ধেক কমে গিয়ে মাত্র ৫ জন ডাক্তার দিয়ে সেটি পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত রোগীর জীবন বাঁচাতে জরুরী হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার একটিও নেই।
এছাড়া এক বছর পূর্বে করোনায় আক্রান্ত রোগীর জরুরী ভিত্তিতে এ হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড সংলগ্ন ৪টি আইসিউ বেড প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পাশর্^বর্তী সরকারী ইউনিয়ন ইনস্টিটিউ পাইলট স্কুলে ৮টি আইসিউ বেড প্রস্তুত করা হয়েছিল। ফলে পুরো এক বছর ঝুড়ে এ উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর বেশির ভাগই উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল’র আইসিউতে চিকিৎসা নেয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে সুধু মাত্র চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে থেকে সুস্থ হয়েছেন। এবারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য খাত।
বৃহস্পতিবার এব্যাপারে উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো.কবির হাসান যুগান্তরকে জানান, কাগজে কলমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ সজ্জা হলেও বাস্তবে তাকে ৩১ শয্যা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্ধেক জনবল নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ৩১ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র ৫ জন ডাক্তার নিয়ে তাকে বৃহত্তর বানারীপাড়া সহ পাশর্^বর্তী ৫টি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার শত শত রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি বানারীপাড়া পৌরসভা সহ উপজেলা ৮টি ইউনিয়নের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকার কারণে পাশর্^বর্তী উজিরপুর উপজেলার হারতা-সাতলা, হাবিবপুর, ওটরা, ভবানীপুর, ডাবেরকুল, গুঠিয়া-নারায়নপুর, নাজিরপুরের বৈঠাকাটা, তরুরবাড়ি, ঝালকাঠীর গুয়াচিত্রা, বীরমহল, গুদিগাটা, রামচন্দ্রপুর, নবগ্রাম, নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা সেবাদিয়ে আসছেন।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কবির হাসান যুগান্তরকে জানান, তিনি গত বছর এই দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে গিয়ে নমূনা সংগ্রহ করে শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে টেস্ট রিপোর্টে করোনা পজিটিভ হওয়া রোগীকে ৪টি আইসিউ বেডে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। এসময় তিনি একজন ফুন্ট লাইনার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে স্বপরিবারে করোনায় আক্তান্ত হয়েছিলেন। এসময় তিনি প্রায় ১ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরে পূনরায় রোগীর স্বাস্থ্য সেবা দেয়া শুরু করেন। করোনা প্রতিরোধের একজন ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে ডাক্তার কবির হাসান যুগান্তরকে জানান, এবারে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে হলে করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা-সেবা দেয়া একই ভবনে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা-সেবা দেয়া ঠিক হবে না। এক্ষেত্রে তিনি সাধারণ রোগীদের করোনার সংক্রামন এড়াতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাশর্^বর্তী একটি আলাদা ভবনে করোনায় আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সাধারণ রোগীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুকী অনেকটা কম থাকবে বলে তিনি মনে করেণ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ এক বছর ধরে তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিউ সংকটের পাশাপাশি ১ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ৭ জন স্বাস্থ্য সকারী, ১ জন ল্যাব টেকনিশিয়ান, ১ জন স্টোরকিপার ও ১ জন হিসাবরক্ষক ও ৩ জন সুইপারের পদ শুন্য রয়েছে। ফলে করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।