পটুয়াখালী প্রতিনিধি
মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে থরে থরে সাজানো হয়েছে মূখোরচক ইফতার সামগ্রী। প্রখর ক্লান্ত দুপুর শেষে রিক্সা,ভ্যান ও অটো রিক্সা চালকসহ নানা শ্রেণীর মানুষ নিয়ে যাচ্ছে এই খাবার। করোনার এই মহামারি লগ্নে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের চৌরাস্তার মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে সোমবার বিকালে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। শুধু তাই নয় ঘুরে ঘুরে বেদে পল্লী ও দুস্থ্যদের ঘরে পৌছে দেয়া হয়েছে। এতে বাদ পরেনি লক-ডাউন বাস্তবায়নে সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারাও। করোনা প্রোটকল মেনে পটুয়াখালীর জনশ্রæতির মানবতার ফেরীওয়ালা মেহেদী হাসান শিবলী এ খাবার সামগ্রী বিতরন করছেন।
মেহেদেী হাসান শিবলী বলেন-করোনার প্রভাবে লক-ডাউন চলছে। বেকার হয়ে পরেছে অগনিত শ্রমজীব মানুষ। অভুক্ত জীবন-যাপন করছে নারী-শিশু ও বৃদ্ধ বয়সিরা। আর এই অভুক্তের তালিকায় রয়েছে মানসিক র্ভাসাম্যহীনরা। তাই এমন চিন্তা মাথায় রেখে প্রথম দিনে শহরের অন্তত আড়াইশ পরিবারকে ইফতার সামগ্রী দেয়া হয়েছে। পটুয়াখালী পৌর এলাকার দক্ষিনবঙ্গ বৃদ্ধাশ্রম, বেদে পল্লী, রিক্সা ও ভ্যান চালক মানসিক র্ভাসাম্যহীন এবং দুস্থ্যদের মাঝে ইফতার সামগ্রী দেয়া হয়েছে।
ইফতার পাওয়া বৃদ্ধ রিক্সা চালক এনসান আলী বলেন-পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রিক্সা চালাই। কোন মেম্বর-চেয়ারম্যানসহ কোন মানুষ খোঁজ লয়না। করোনাতে সরকার লক-ডাউন দেয়ার পর কেউ আমারে খাবার দিছে। বিক্রমপুরে বেদে পটুয়াখালী সেতুর নিচে অবস্থানরত লিয়াকত বলেন-করোনার কারনে কোন কাজ-কাম নাই। কোথায় বেড় হওয়া যায়না। ভিনদেশী হওয়ায় কেউ তাদের খোঁজ নেয়না। এক প্যাকেট খাবার মনে হয় যেন আল্লাহ নিজে পাঠেিয়ছেন।
প্রসঙ্গত, করোনার প্রথম ধাপ থেকে শুরু করে চলমান সময় পর্যন্ত অন্তত চার হাজার মানুষকে বিনামূল্যে খাবার,চিকিৎসা,শিক্ষা উপকরন এবং বস্ত্রসহ মানবিক সহায়তা দিয়েছে মেহেদী হাসান শিবলী। মেহেদী হাসান পৌর নিউমার্কেট এলাকায় ফোকাস ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ##