টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কালক্ষেপন
জি.এম রিপন,বানারীপাড়া
করোনা প্রতিরোধে সরকারী ভাবে ঘোষনা অনুযায়ী বরিশালের বানারীপাড়ায় উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টা কাজ এক বছরেও শুরু করা হয়নী। জাইকার অর্থায়নে বানারীপাড়া উপজেলা এলজিইডি থেকে সম্প্রতি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্ধের টেন্ডার হওয়ার পর কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস.আর এন্টার প্রাইজের সত্যাধিকারী বিএনপি নেতা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম আজ পর্যন্ত সেই কাজ শুরু করেননী।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, করোনা প্রতিরোধে সরকারী ভাবে ঘোষনা দেওয়ার কমপক্ষে ৯ মাস পর উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টার চালু করার জন্য সস্প্রতি জাইকার অর্থায়নে উপজেলা এলজিইডি থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্ধের ই-টেন্ডার আহবান করা হয়। ওই টে›ন্ডার পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস.আর এন্টার প্রাইজের সত্যাধিকারী উদয়কঠি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ দিন পরেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টার চালু করার কাজ শুরু করেনী। ফলে করোনাকালিন এই সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনায় আক্রান্ত রোগীর জীবনের ঝুকী দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এব্যপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস.আর এন্টার প্রাইজের সত্যাধিকারী বিএনপি নেতা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, করোনা প্রতিরোধে চলমান লগডাউন না গেলে খুলনা থেকে সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টার কাজের অভিজ্ঞ লোক-জন আনতে পারছেন না। এক্ষত্রে সরকারী ঘোষনা অনুযায়ী লগডাউন চলাকালিন সময় উন্নয়ন কাজ চলমান রাখার নির্দেশনা থাকলেও তিনি লগডাউন না গেলে ওই কাজ শুরু করতে পারবেন না বলেও জানান। ফলে এ নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো.কবির হাসান জানান, আমি যতদুর যানী, করোনা প্রতিরোধে সরকার এক বছর পূর্বে জাইকার অর্থায়নে সারা দেশের উপজেলা সদরে ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টার চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে অনুযায়ী এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টার চালু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এক্ষেত্রে বানারীপাড়া উপজেলায় ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনও সেটি চুলু করা না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিয়টি এরিয়ে যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর কাছ থেকে জেনে নিতে বলেন।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা জানান, সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টার চালু করার কাজে বিলম্ভ হওয়ার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসময় তিনি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টার কাজের অগ্রগতী সম্পর্কে জানতে চান। একই সময় তিনি ওই কাজ শুরু করতে বিলম্ভ করা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।
এদিকে করোনা প্রতিরোধে সরকারী ভাবে ঘোষনা দেয়ার এক বছর পর বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টার এর টেন্টার দেয়ার ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো.হুমায়ুন কবির জানান, আমরা তিন মাস পূর্বে জাইকার অর্থায়নে একটি সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টার চালু করার জন্য চিঠি পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেই। ওই সময় প্রথমে আমরা একটি সেমিপাকা (টিনসেট) ভবনের কাগজপত্র সহ টেন্ডার আহবানের অনুমতি চেয়ে জাইকার কাছে প্রস্তাব পাঠাই। সে প্রস্তাবটি জাইকার নিয়ম অনুযায়ী না হওয়ার কারণে তারা সেটি বাতিল করে দিয়ে পূনরায় আমাদের কাছে একটি ছাদসহ পাকা ভবনের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র চেয়ে চিঠি পাঠায়। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে আমরা একটি পাকা ভবনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাই। পরে তাদের কাছ থেকে টেন্ডার আহবানের অনুমতি পাই এবং সম্প্রতি আমরা ই-টেন্ডার আহবান করি। এসময় লটারীর মাধ্যমে মেসার্স এস.আই এন্টার প্রাইজ ওই টেন্ডারটি পায়। সম্প্রতি ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের কার্যাদেশ নিলেও জাইকার নিয়ম অনুযায়ী এখনও তারা সেন্টাল অক্সিজেন সেন্টার এর কাজ শুরু করেননী। এক্ষেত্রে তিনি ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্যাধীকারী সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস.আর এন্টার প্রাইজের সত্যাধিকারী বিএনপি নেতা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, করোনায় চলমান লগডাউন না গেলে তারা ওই কাজ শুরু করতে পারছেন না। ফলে করোনা প্রতিরোধে হিমসিম খাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এব্যপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, সরকারী হিসেব অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৮১ জন বাসিন্দা করোনা পজিটিভ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকার পর দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬৭ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এছাড়া বর্তমানে করোনায় আক্রন্ত ১০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের জরুরী চিকিৎসার জন্য উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র ৬টি আইসিলোশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে জনবল সংকটে থাকা উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর জরুরী চিকিৎসা-সেবা ব্যহত হচ্ছে।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কবির হাসান জানান, তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে কলমে ৫০ শয্যা হলেও বস্তবে সেটি ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী তার ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে তিনি সহ মাত্র তিন জন ডাক্তার রয়েছেন। এর মধ্য থেকে রোববার এক জন ডাক্তার মাতৃত্বকালিন ছুটির আবেদন করেছেন। এছাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র ৫ জন ডাক্তার দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আপতকালিন জরুরী স্বাস্থ্য সেবার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।