মুলাদীতে ব্যবসায়ীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আংগুল কর্তনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ১৬ ই মে রবিবার ব্যবসায়ীর রুহুল আমিনের স্ত্রী ফারজানা ইয়াসমিন সুইটি বাদী হয়ে নামধারী ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া অজ্ঞাত নামা ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে এমনটা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শহিদুল।
এসআই শহিদুল জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কোপানোর ঘটনা ঘটেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি চলছে।
হামলার পর পর মুলাদী থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার আসামিরা হলো, পূর্ব হোসনাবাদ গ্রামের জাফর আলী মৃধার ছেলে কছির আহমেদ, এবং তাদের সহযোগী মাসুদ, মেছের আলী, ফারুক, নাঈম, হৃদয়, মাহফুজ, মাহবুব ও সজলসহ অজ্ঞাত নামা ৫-৭জন।
ফারজানা ইয়াসমিন সুইটি জানান, রুহুল আমিন মৃধা ও তার বাবা হেলাল উদ্দিন মৃধা পূর্ব হোসনাবাদ গ্রামে মুদি ব্যবসায়ী ।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কছির আহমেদ ও তার সহযোগিরা রুহুল আমিনের দোকান থেকে মালামাল বাকিতে নেয় এবং নগদ টাকা ধার নেয়।
পাওনা টাকা চাইতে গেলে কছির ও তার সহযোগীরা তালবাহানা শুরু করে দেয়।
বিষয়টি নিয়ে রুহুলআমিন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে কছির ও তার সহযোগীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
এ নিয়ে ব্যবসায়ী রুহুল আমিন ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি সহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পাশাপাশি মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে।
ঘটনার দিন গত ১৪মে ঈদের দিন রাত দশটার দিকে পাওনা টাকা চাইতে গেলে ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের সাথে কছির আহমেদ ও তার সহযোগীদের দ্বন্দ্ব হয়।
এরই জের ধরে একপর্যায়ে কছির, মাসুদ মেছের, ফারুক, নাঈম, হৃদয়, মাহফুজ, সজল, মাহবুবসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে রুহুল আমিনের দোকানে হামলা চালায়।
তারা রুহুল আমিনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে তার বাম হাতের আঙ্গুল কর্তন করে। তাকে বাঁচাতে বাবা হেলাল উদ্দিনএবং ভাই সোহেল আসলে তাদেরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এছাড়া দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসন আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক মুলাদীতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এদের মধ্যে রুহুল আমিন ও হেলাল উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার আঘাতে রুহুল আমিনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপের জখম ও বাম হাতের আঙ্গুল কর্তন হয়। এবং ডান হাত ভেঙ্গে যায়।
হেলাল উদ্দিনের ডানপায়ে মারাত্মক জখমসহ গান পা ভেঙ্গে যায়।
তবে অবস্থার অবনতি হলে যেকোনো সময় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন শেবাচিমের অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আহতের পরিবার আসামিদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন আহতের পরিবার।