• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাসনের সাগর কুলের দ্বীপ গুলিতে আশ্রয়কেন্দ্র নেই॥ চরাঞ্চলে প্রায় দেড় লক্ষাধিক শিশু নারী পুরুষ আশ্রয়হীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২১, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
চরফ্যাসনের সাগর কুলের দ্বীপ গুলিতে আশ্রয়কেন্দ্র নেই॥ চরাঞ্চলে প্রায় দেড় লক্ষাধিক শিশু নারী পুরুষ আশ্রয়হীন

চরফ্যাশন ভোলা প্রতিনিধি

ঘুর্ণিঝড় যশ’র আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভোলার উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দেরকে পার্শ্ববর্তী নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু চরফ্যাসন উপজেলার মেঘনা ও সাগর মোহনায় জেগে ওঠা, ঢালচর, কুকুরি মুকুরি, চরপাতিলা, চরহাসানসহ বেশ কয়েকটি জনবসতিপূর্ণ দ্বিপে বিশেষ কোন আশ্রয়কেন্দ্র নেই বললেই চলে। ওইসব চরাঞ্চলে প্রায় দেড় লক্ষাধিক শিশু নারী পুরুষ চরম আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়, ঢালচরে একটি মাত্র আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে। সেটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নেই। কুকুরি-মুকুরিতে কোন আশ্রয় কেন্দ্র নেই। তবে কুকুরি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূর চরপাতিলায় একটি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। যেটিকে কয়েক বছর আগে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এদিকে ইলিশের মৌসুম হওয়ায় ওইসব চরাগুলোতে এখন স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ অবস্থান করছে। এত মানুষের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় তারা ঝড় জলোচ্ছ্বাসে চরম ঝুকির মধ্যে থাকে।
কুকরী-মুকরী চেয়ারম্যান হাসেম মহাজন জানান, এই ইউনিয়নের ১৭ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ৮টি স্কুল কাম আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। যেগুলোতে ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন।।
সাগর মোহনার ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেছেন, এই দ্বীপ ইউনিয়নের ১৫ হাজার মানুষের জন্য মাত্র একটি আশ্রয়কেন্দ্র আছে। যাতে সর্বোচ্চ ৫শ’ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।
চরফ্যাসন উপজেলা ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সহকারী পরিচালক মেজ্জবাউল রসিদ জানান, চরফ্যাসন উপজেলায় মোট ১২৫টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ব্যবহারের উপযোগী নয়। এ ছাড়া ২৩টি মাটির কেল্লার মধ্যে মাত্র ১০টি কেল্লায় বিপদকালীন আশ্রয় নেয়া যায়।
উল্লেখ্য, মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরাগুলোতে আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় বুলবুল, ফনী, আইলা সিডরের মত ঝড় জলোচ্ছ্বাসে ব্যপক জান মালের ক্ষতি হয়।