চরফ্যাশন ভোলা প্রতিনিধি ॥
পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ’ইয়াস’ মোকাবোলয় সমগ্র উপকূলজুড়ে সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন।ভোলার দক্ষিণ উপকূলের চরফ্যাশন উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে রেড ক্রিসেন্টের ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী-সিপিপি’র প্রায় ৩ হাজার৩শত স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বল্পতম সময়ে উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রসহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে এসব স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে বলে সিপিপি’র দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে।এছাড়া আবহাওয়া বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সরকারি নিন্দেশনার আলোকে দ্রুততম সময়ে উপকূলে ঝড়ের সতর্কতা পৌছে দিতেও প্রস্তত রয়েছে স্বেচ্ছাসেবকগণ।
গত বছর ২১ মে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলাসহ দেশের দক্ষিণ উপকূলে প্রবল বর্ষণ আর জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হেনেছিল। তার ঠিক ৬ মাসে আগে ২০১৯ সালের নভেম্বর আরেক ঘূর্ণিঝড় বুলবুলও একইভাবে দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে।
এদিকে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলাসহ জেলার সবগুলো উপজেলায় জেলা প্রশাসনের নিদেশে ইতোমধ্যে যেকোন দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে।উপজেলা পযার্য়ে বিদ্যুৎ, টেলিফোনসহ অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাতগুলো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নিন্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রশাসন থেকে।
করোনা সংকটের কারণে প্রায় ১ মাস দেশের সব অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল, তাই বিআইডব্লিউটিএ সম্ভাব্য দুর্যোগ নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন না হলেও চলতো কিন্ত হঠাত করে সেই নিদেশ তুলে নেয়ার কারনে তারা একটু উদ্বিগ্ন । কতৃপক্ষ বলছে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আছে তারা। চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসনের নিদেশে বেতুয়া, ঘোষেরহাট, লেতরা স্টিমার বন্দর হতে নৌ-পথে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী কোন লঞ্চ ছাড়েনি। নদী ও সমুদ্রের সকল মাছ ধরার নৌকা তীরবর্তী স্থানে রাখা হয়েছে।
এদিকে ত্রান কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে সবচেয়ে ঝুকির মধ্যে চরফ্যাসন উপজেলা। সোমবার দুর্যোগ প্রস্তুতির মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিকটন শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে।
সিপিপি কর্মকর্তা মেজ্জবাউর রসিদ বলেন, উপকূলীয় চরফ্যাসন উপজেলায় ২১ টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৩শ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা প্রত্যন্ত এলাকায় মাইকিং চালিয়ে যাচ্ছে এবং দুর্যোগের ঝুকি মোকাবেলায় মানুষকে সতর্ক করার লক্ষ্যে প্রত্যেক ইউনিয়নে সতর্ক সংকেত পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।