• ২২শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ২৬, ২০২১, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
মির্জাগঞ্জে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্নিমার জোয়ারের প্রভাবে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা এবং শ্রীমন্ত নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে পায়রা নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে মাধবখালি ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের প্রায় ১০০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পূর্ব রামপুর ও সন্তোষপুর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এতে ওই এলাকার প্রায় ৬০ হেক্টর কৃষি জমি প্লাবিত হয় ও ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

পরদিন বুধবার (২৬ মে) সকালে পায়রা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের কপালভেড়া, মির্জাগঞ্জ মাজার এলাকা ও সুন্দ্রা কালিকাপুর গ্রাম প্লাবিত হয় এবং দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের ৪১/৭ পোল্ডারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নব নির্মিত বেড়িবাঁধের চরখালী সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের্ব প্রায় ৮০ ফুট বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ফলে প্রবল বেগে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে চরখালী, মেন্দিয়াবাদ ও রানীপুর গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ওই সব গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে প্রায় ১০০ একর জমির রোপা আউশ ধান।
এদিকে পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাটের পল্টুনের গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে হাজারও যাত্রী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফেরীতে ও ট্রলারে উঠতে হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের।

অপরদিকে শ্রীমন্ত নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুবিদখালী বাজার প্লাবিত হয়। এতে বাজার করতে আসা লোকজনদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। বুধবার সাপ্তাহিক হাট বসায় সুবিদখালী বাজারে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও লোকজন বাজার করতে আসেন। বাজার প্লাবিত হওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, পটুয়াখালীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহ আলম গতকাল বুধবার ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে জানান, জোয়ারের পানি বিপদ সীমার ৭৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ঢেউয়ের আঘাতে এ পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ৮০ ফুট ভেঙ্গে গেছে। পানি কমে গেলে দ্রুত বেড়িবাঁধটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে বেরিবাধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে আমার মির্জাগঞ্জ উপজেলায় প্রায় চল্লিশটি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়। সাত-আট কিলোমিটার বেরিবাধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দশ থেকে বারো কিলোমিটার পাকা-আধাপাকা এবং গ্রামীণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে অতি শীঘ্রই বেড়িবাঁধসহ ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট পুনঃনির্মাণ করা হবে।