• ২২শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ : কেটে গেছে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ২৭, ২০২১, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
চরফ্যাশনে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ : কেটে গেছে আতঙ্ক

চরফ্যাশন প্রতিনিধি॥
চরফ্যাশনে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশের’ তাণ্ডবে উপকূলে বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।জোয়ারের পানি, রাতভর ঝড়ো বাতাস আর থেমে থেমে ভারী আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ১৫হাজার মানুষ । উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়েনে প্রায় ৫শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বিধ্বস্ত হয়েছে । ঘূর্ণিঝড়ের এক দিন পর এত সব আতঙ্ক আর উৎকন্ঠা কেটে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন।
ঝড়ে আউশ, পাট, চিনা বাদান ও সয়াবিনের কিছুটা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করলেও কৃষি বিভাগ বলছে, যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে ফসলের ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই। জানা গেছে চরফ্যাশনের ঢালচরে বেশ কিছু এলাকায় ৫০টি ঘর ও ৩০ মাছের আড়ৎ বিধ্বস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭মে) সকাল থেকে ফের জোয়ারে পানিতে ফের প্লাবিত হয়েছে বাঁধের বাইরের নিচু এলাকাগুলো। এর মধ্যে রয়েছে চরফ্যাশনের ঢালচর, চর পাতিলা, চর নিজাম, কুকরি-মুকরি,মুজিব নগর ও চর মানিকা,হাজারীগঞ্জ,নুরাবাদ, নীলকমল সহ বেশ কিছু এলাকা। তবে পানির চাপ কিছুটা কম।ঢালচরের বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, সকাল জোয়ারে এসেছে এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়ে পুরো এলাকা তলিয়ে যাওয়ার পর আবার নতুন করে জোয়ার এসে প্লাবিত হচ্ছে এলাকা। রাতের ঝড়ে ৫০টি কাঁচা ঘর ও ৩০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢালচর ইউনিয়ন বাসিন্দা শাহ আলম জানান , ঝড়ের রাতে ঢালচর থেকে ১০০ পরিবারকে উদ্ধার করে চরমানিকার চর কচ্ছপিয়া আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়। সকালে ওইসব মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছে। স্বাভাবিক হতে শুরু করছে জনজীবন।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা -২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন,উপজেলার বেতুয়াসহ ৩টি পয়েন্টে ২৫০ মিটার এলাকা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বাঁধগুলো মাটি ও জিওব্যাগ দ্বারা মেরামত করা হচ্ছে। এছাড়াও ২টি পয়েন্টে বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৩০০ মিটার মাটি ও সিনথেটিক ব্যাগ দ্বারা মেরামতসহ উচ্চতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ৫শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। ২০০মন শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।
নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন , সকাল থেকেই আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ এবং জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে । এদিকে উপকূলীয় এলাকার যেসব মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। সকালে ওইসব মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছে। স্বাভাবিক হতে শুরু করছে জনজীবন।