রাজধানীর মগবাজার ওয়ারলেসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতদের মরদেহ বুঝে নিতে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের সামনে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। প্রিয়জন হারিয়ে বাকরুদ্ধ তারা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধ তিনজন জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে আছেন। আর বাকি দুজনকে দেওয়া হয়েছে সাধারণ শয্যায়। এ ছাড়া এ ঘটনায় বাকি আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে জরুরি বিভাগের সামনে বিলাপ করছেন সোহাগী বেগম। পাশে নির্বাক চোখে তাকিয়ে তার নয় বছর বয়সী কন্যা মিম।
রোববার সন্ধ্যায় মগবাজার বিস্ফোরণে দগ্ধ মারা গেছেন সোহাগীর স্বামী আবুল কাশেম। দুই বছর আগে লোন নিয়ে কিনেছিলেন বাস, চালাতেন নিজেই। বিস্ফোরণের সময় বাসেই ছিলেন তিনি। সোহাগী বেগম জানান, টেলিভিশনে খবর দেখে ছুটে আসেন হাসপাতালে। সব হারিয়ে নিরুপায় তিনি।
এ বিস্ফোরণের মারা গেছেন কবি নজরুল কলেজের অনার্স শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ও স্বপন মিয়া। লাশ গ্রহণের অপেক্ষায় তাদের স্বজনরাও। দুজনই চিকিৎসার জন্য মগবাজারে গিয়ে শিকার হন দুর্ঘটনার।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল বলেন, এ চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঁচজন ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন আইসিইউতে আর একজন এইচডিইতে। এই তিনজনের নব্বই শতাংশ পুড়ে গেছে। আর বাকি দুজনকে সার্জারি শেষ জেনারেল বেডে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনায় যারা মারা গেছেন তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছে জেলা প্রশাসন।