• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উজিরপুরে এক কিশোরকে চুরির অপবাদে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ১৫, ২০২১, ১৫:১৩ অপরাহ্ণ
উজিরপুরে এক কিশোরকে চুরির অপবাদে নির্যাতন

উজিরপুর প্রতিনিধি :: বরিশালের উজিরপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে কিশোরকে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে প্রভাবশালীরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হামলাকারীদের হুমকীর মুখে আতঙ্কে অসহায় পরিবার। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায়- উপজেলার শোলক ইউনিয়নের যুগিহাটি গ্রামের মৃত খালেক মোল্লার ছেলে প্রভাবশালী বেল্লাল মোল্লা(৩০), জলিল মোল্লা(৪০), ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে জহুরুল হাওলাদার(২৬), মৃত নাসির হাওলাদারের ছেলে ইসমাইল হাওলাদার(৫৫)সহ অজ্ঞাত ৪/৫জন মিলে ১৪ জুলাই বিকেল ৪ টায় একই এলাকার মৃত কালাম খানের কিশোর ছেলে শফিক খান(১৪)কে তাদের বাড়ীতে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে ভরা মজলিশে বাশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার মা রেহেনা বেগম(৪৫) প্রতিবাদ করলে তাকেও পিটিয়ে আহত করে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। জানা যায় ঘটনার পূর্বের দিন বেল্লাল মোল্লার ঘর থেকে ১ হাজার টাকা খোয়া গেছে। পূর্ব শত্রæতার জের ধরে ওই শিশুর উপর চুরির অপবাদ দিয়ে ১৪ জুলাই বিকেলে প্রভাবশালীরা বাটি চালান ও চাল পড়া দেয়। এসময় ৬০/৭০ জন লোক জরো হয়। সেই ভরা মজলিশেই শিশু ও তার মায়ের উপর হামলা চালায়। এ ব্যাপারে শিশুর মাতা রেহেনা বেগম বাদী হয়ে ১৫ জুলাই উজিরপুর মডেল থানায় উল্লেখ্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত বিল্লাল মোল্লা জানান- আমার ঘর থেকে ১ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। সে ঘটনায় বাটি চালান ও চাল পড়া দিয়ে শফিককে চোর শনাক্ত করে তারপরে আমরা তাকে মারধর করেছি। ওই এলাকার হানিফ হাওলাদারের ছেলে নাজু বেগম বাটি চালান দিয়ে শফিককে চোর সনাক্ত করে।

অভিযুক্ত জলিল মোল্লা জানান- চুরি করেছে বিধায় মারধর করেছি। এ ঘটনায় এলাকায় শালিশ বৈঠকে হলেও রাজি আছি এবং আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও তাতে কোন ক্ষতি নেই।
কিশোরের মাতা রেহেনা বেগম জানান- আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে সন্তানদের খুব কষ্ট করে লালন পালন করছি। আমার নাবালক ছেলে শফিককে ওই প্রভাবশালীরা ক্ষমতার দাপটে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে এবং আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকেও মারধর করেছে। এরপরেও ক্ষ্যান্ত হয়নি হামলাকারীরা। আমাদের পরিবারের সকল সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকী দিচ্ছে তারা। অর্থের গরিমায় তারা গরীব অসহায় মানুষদের কিছু মনে করেন না। আইনকে তোয়াক্কা করছেনা তারা। আমাদের এলাকা থেকে উৎখাত করার জন্য একের পর এক অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকী আমার বড় ছেলে প্রতিবাদ করায় তার চোখ উঠিয়ে ফেলার হুমকি দেয় ওই প্রভাবশালীরা।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলী আর্শাদ জানান- আইন আইনের গতিতেই চলবে। কোন অপরাধী পার পাবেনা। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রæত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কিশোরটির পরিবার ওই নির্যাতনকারীদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।