ডেস্ক রিপোর্ট:
বিজ্ঞান এখন একেবারে সুস্পষ্ট: আন্তরাষ্ট্রীয় জলবায়ু প্যানেলের (আইপিসিসি) ষষ্ঠ মূল্যায়ন মানবতার অস্তিত্বের কথা বলছে।
ইউরোপ থেকে আমেরিকা, এশিয়া থেকে আফ্রিকা সর্বত্র জলবায়ু আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দূষিত ও অ্যাসিডযুক্ত হয়ে উঠছে সাগর ও মহাসাগর। সংকটাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাস্তুসংস্থান। মানুষের কর্মকান্ড দ্রুত প্রকৃতিকে ঠেলে দিচ্ছে খাদের দিকে। তাপপ্রবাহ, ভারী বৃষ্টিপাত, খরা বা সাইক্লোন তীব্রতর হচ্ছে, বাড়ছে প্লবণতা।
মৌসুমী আবহাওয়ায় ও ঋতু পরিবর্তনে দেখা যাচ্ছে অনিয়ম, অনিশ্চয়তা৷ নতুন রোগজীবাণু ও পানি-পতঙ্গবাহিত ব্যাধি কৃষিকাজ থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্যকে হুমকিতে ফেলছে।
দৃশ্যমান হচ্ছে অপূরনীয় ক্ষতির আভাস।
কিছু সম্পদশালী মানুষ ও সমাজের নির্লিপ্ততা ও উদাসীনতায় কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা এখন নিশ্চিতপক্ষে সংকটাপন্ন। তারা ভুগছে বিনা দোষে, নি:শব্দে৷ কোথাও কোথাও অভিযোজন করার সীমাও অতিক্রম করছে সহনশীলতা। অন্য দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ করছে, আর আমরা জীবন দিয়ে এর মূল্য পরিশোধ করছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মানুষের ক্রমবর্ধমান জলবায়ু অনিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার জন্য বাংলাদেশ তাই বিশ্ব গণমাধ্যম এবং বিশ্ব সমাজ-কে তাগিদ দিচ্ছে।
সর্বোপরি, বাংলাদেশের মতো বিপদাপন্ন দেশগুলো অস্তিত্বগত হুমকির মুখোমুখি, নীরবেই: আমাদের উপকূল, দ্বীপ, চর, নদী-তীরবর্তী অঞ্চল, জলাভূমিতে মানুষের জীবন-জীবিকা ক্রমান্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ; মাটি ও পানিতে লবণাক্ততা এখন সহনীয় মাত্রার অনেক বাইরে।
এসবই সবাই এখন জানি। বিশ্ব সমাজও অবগত। তবুও, আমাদের সবার যা’ করার কথা, তা’ হচ্ছে খুবই স্বল্প আকারে। বা এগুচ্ছে, খুব ধীর গতিতে।
পৃথিবীর প্রকৃতির পরিচর্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানো আমাদের সবার সমন্বিত দায়িত্ব। সম্পদ – সক্ষমতার দিক থেকে যেসব দেশ ও সমাজ সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের মতো দেশে জলবায়ু পরিবর্তনগত পরিস্থিতি উপেক্ষা করে কারো ভবিষ্যৎই নিশ্চিত হবে না। বা, করা যাবে না।বিশ্বের সব রাজনীতিক এবং গণমাধ্যমের দৃষ্টি এখন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ ২৬)-এ ধাবিত। বাংলাদেশের শিশু-কিশোর-তরুণরা তাই বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহবান জানাচ্ছে:
– ফসলের মাঠ থেকে কলকারখানা সর্বত্র আমাদের কৃষক, শ্রমিক, মৎস্যজীবীদের দুর্দশার কথগুলো মন দিয়ে শুনুন। সবচেয়ে বিদাপন্ন আমাদের শিশু, নারী ও কিশোরীদের কথাও শুনুন। তাদের দুর্দশা, দুর্ভোগ উপলব্ধি করুন। কার্যকরী উদ্যোগ নিন, এখনই!
যে বিলাসবহুল জীবনযাত্রা অভ্যাস – জীবনধারা – অগ্রাধিকার ভোগ পছন্দ গুলো প্রকৃতি এবং জলবায়ুকে বিপর্যস্ত, ক্ষতি, দূষিত ও ধ্বংস করে, তা’ পুনর্বিবেচনা বা বর্জন করুন;
– সব দেশে শিল্পকারখানা ও উদ্যোক্তারা সর্বত্র দায়িত্বশীল, সংবেদনশীল এবং প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হতে বলুন। আর্থিক মুনাফা অবশ্যই সবার সমৃদ্ধি নিশ্চিত করেই হওয়া প্রয়োজন। সর্বত্র আমাদের উদ্ভিদ এবং জীববৈচিত্র্য সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে। অপার ধন হিসাবে সংরক্ষণ করেই টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করতে হবে৷
– বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজন জীবন রক্ষাকারী প্রযুক্তি-জ্ঞান। সব ধরনের প্রযুক্তি, জ্ঞান, উদ্ভাবন প্রয়োগ ও বিকাশ নিশ্চিত করে আমাদের প্রকৃতি ও জলবায়ু সুরক্ষিত করুন।
জলবায়ু কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, অভিযোজন কিংবা সহনশীলতা আমাদের জন্য আপাত: অনেকটা কঠিন হলেও, তা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। আমরা সহানুভূতি, অনুকম্পা বা অনুদান চাই না। আমরা চাই ন্যায্যতা, সুবিচার এবং দায়িত্ববোধ৷
আমরা সহানুভূতি, অনুকম্পা বা অনুদান চাই না। আমরা চাই ন্যায্যতা, সুবিচার এবং দায়িত্ববোধ।
বাংলাদেশ তার সক্ষমতার চেয়ে বেশি করার চেষ্টা করছে। কারন, আমরা বিশ্বাস করি, যে কোন দেশে বা সমাজে জলবায়ু সংকট, সবার অস্তিত্বকে সংকটাপন্ন করে, সবার অগ্রযাত্রা ব্যাহত করবে!