• ২২শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বানারীপাড়ায় চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজের দু’টি গার্ডারভিম নদীতে পড়ে তিন শ্রমিক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ১৫, ২০২১, ০৭:২২ পূর্বাহ্ণ
বানারীপাড়ায় চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজের দু’টি  গার্ডারভিম নদীতে পড়ে তিন শ্রমিক আহত

৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে র্নিমানাধীন

জি.এম রিপন,বানারীপাড়া
বরিশালের বানারীপাড়ায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০৫ মিটার দৈর্ঘ ও ৭’৩২ মিটার প্রস্থ র্নিমানাধীন চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজের মধ্যবর্তী স্পানের দু’টি গার্ডারভিম সেট করার সময় স্লিপ করে কচাঁ নদীতে পড়ে তিন শ্রমিক আহত হয়েছে। এসময় গার্ডারভিম পড়ার বিকট শব্দে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। চৌমোহনা বাজারের ব্যবসায়ী এনড্রি মানিকসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, শনিবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজের মধ্যবর্তী স্পানের দু’টি গার্ডারভিম কচাঁ নদীতে পড়ার বিকট শব্দে তারা দোকান ও বসতঘর থেকে বের হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তারা দু’টি গার্ডারভিম মাঝ নদীতে পড়ে তিন শ্রমিক আহত হওয়ার জন্ত্রনায় কাতরাছেন বলে দেখতে পান। এসময় তারা সেখান থেকে আহত ওই তিন শ্রমিককে উদ্ধার করে বিশারকান্দি ডিজিটাল ডায়গনস্টিক ল্যাবে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার সমিরন বড়াল তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর আহত হওয়া বাবু নামের এক শ্রমিককে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করেণ।
এব্যাপারে বিশারকান্দি ডিজিটাল ডায়গনস্টিক ল্যাবের ডাক্তার সমিরন বড়াল জানান, চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজের গার্ডারভিম স্লিপ করে কচাঁ নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় তিন শ্রমিক আহত হয়ে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসছিলেন। এসময় তাদের মধ্য থেকে গুরুতর আহত হওয়া বাবু নামের এক শ্রমিকের নাক ও মূখ থেকে রক্ত পড়ছিল। এসময় তাকে প্রাথমিক ভাবে এক্সরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তার বুকের মধ্যে খ্যাচার দু’টি ও বুকের ওপরের ১টি হার ভেঙ্গে গেছে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজের মধ্যবর্তী স্পানের ৪টি গার্ডার ভিম সেট করার সময় দু’টি গার্ডার ভিম সিলিপ করে নদীতে পড়ে যায়। এতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বরিশাল এলজিইডির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র যুগান্তরকে জানায়।
এব্যাপারে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো.জামাল উদ্দিন জানান, ব্রিজের দু’টি স্প্যানের মাঝের প্রতিটি গার্ডারভিম সেট করার সময় শ্রমিকদের অনেকটা দায়ীত্বশীল ও সর্তক থাকার পাশাপাশি সেটি ধীর-স্থিরভাবে সঠিক স্থানে সেট করতে হয়। এক্ষেত্রে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা তারা-হুরা করে একটি গার্ডারভিম সেট করার সময় সিলিপ করে আর একটি গার্ডার ভিমের ওপর পড়ে যায়। এসময় ওই দু’টি গার্ডারভিম কচাঁ নদীতে পড়ে যায়। এক্ষেত্রে ব্রিজ নির্মান কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ওই গার্ডারভিম নির্মান করে দিতে হবে বলেও নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।
এদিকে বানারীপাড়ার বিশারকান্দির কচাঁ নদীতে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০৫ মিটার দৈর্ঘ ও ৯’৩ মিটার প্রস্থ চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজ নির্মান কাজ ২০১৭ সালের ২৪ আগষ্ট বরিশালের দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স অরিয়েন্টাল ট্রেডিং এন্ড বিল্ডারর্স (ওটিবিএল) ও মেসার্স কহিনুর এন্টার প্রাইজকে ওয়ার্কঅডার দেয়া হলেও মূলত ২০১৮ সালের প্রথম দিকে কাজ শুরু করা হয়। আড়াই বছর মেয়াদের ওই ব্রিজ নির্মান কাজ শুরুতেই ডিজাইন জটিলতার জন্য আবার সেটি থেমে যায়। পরে ডিজাইন সংশোধন করে ২০১৮ সালের শেষের দিকে আবার ওই ব্রিজটির নির্মান কাজ শুরু হয়। বর্তমানে ওই ব্রিজের মাঝে দু’টি স্পান নির্মান কাজ বাকী রয়েছে। এক্ষেত্রে ওই দু’টি স্পান নির্মান কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো.জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ব্রিজ নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই এ্যাপ্রোসসড়ক নির্মানের জন্য দুই পাশে ১১’শ মিটার ভায়াডাক ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছেন। তাদের ওই কাজ শেষ হলেই সেখানে নতুন করে এ্যাপ্রোসসড়ক নির্মান কাজ শুরু করবেন বলে তিনি জানান।
প্রসংঙ্গত বানারীপাড়ার বিশারকান্দির কচাঁ নদীতে চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজ নির্মান কাজ জানা গেছে, সম্প্রতি চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজ নির্মান কাজ শেষ হলে বরিশাল থেকে বানারীপাড়া হয়ে কোটালীপাড়া-খুলনা, যশোহর ও ভেনাপোল সড়কে সরাসরী যাত্রীবাহী বাসসহ যানবাহন চলাচল শুরু করতে পারবে। এক্ষেত্রে সড়ক ও জনপদ বিভাগের দান্ডয়াট-বিশারকান্দি সড়কটি ওই ব্রিজের সংযোগ সড়ক হিসেবে অন্তরভূক্ত করার পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাস ও ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য একাধিক ব্রিজ-কালভার্ট নির্মান করা জরুরী বলে এলাকার অভিজ্ঞমহল যুগান্তরকে জানিয়েছেন।
এব্যাপারে বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মাসুদ মাহমুদ সুমন জানান, আমরা দান্ডোয়াট-মিশারকান্দি সড়কের ৭-৮টি ব্রিজ কালভাট নির্মান করার চেষ্টা করছি। এছাড়া হারতা ও চৌমোহনা ব্রিজ’র সংযোগ সড়ক নির্মান করতে হলে এলজিইডির আইডিভূক্ত সড়কগুলো নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে হস্তান্তর করতে হবে। তাহলেই তারা ওই সড়ক উন্নয়ন কাজ করতে পারবেন বলে তিনি জানান।