রফিকুল ইসলাম ফুলাল দিনাজপুর প্রতিনিধি :
বৃক্ষরোপন কর্মসুচী প্রকল্পের উপকারভোগীদের অর্থ আত্বসাতের অভিযোগে দিনাজপুর বিরামপুর ই্উএনও পরিমল সরকারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিরামপুর মহিলা সমিতির সুবিধাবঞ্চিত অসহায় নারীরা।
২২ আগষ্ট রবিবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন উল্লেখিত সংগঠনের সুবিধাবঞ্চিত ১২ জন নারী। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১২ জন নারীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাশেদা বেগমের পুত্র মানিক।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগীতায় বিল্ড,আইএফএসপি প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুরের বিরামপুরের ৫ নং বিনাইল ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপন ও আনুসাঙ্গিক কৃষি উতপাদন বিষয় নিয়ে আমরা ১৮ জন নারী (মহিলা সমিতি গঠন পূর্বক) সরকারের স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ২০০২ সালে বৃক্ষরোপন ও রক্ষণাবেক্ষনে সম্পৃক্ত থাকার চুক্তিতে আবদ্ধ। এসময় ১৮ জন উপকারভোগী নারী সদস্যের প্রত্যেকের ভাগে ৬৫০টি গাছ বরাদ্ধ হিসেবে মোট ১১ হাজার ৭০০টি বৃক্ষরোপনের কর্মসুচী সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছিলো। চুক্তি মোতাবেক সরকার পক্ষ ৬০ ভাগ,মহিলা সমিতির সদস্যরা ২০ ভাগ এবং রাস্তা সংলগ্ন ভুমি মালিকগন ২০ ভাগ উপকারভোগী হিসেবে বিবেচিত হবে। গত ১৫/৫/২০০২ ইং তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় পক্ষ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে বৃক্ষরোপনের কার্যক্রম শুরু করি অথচ এখন বৃক্ষগুলি বিক্রয়ের উপযোগী হওয়া সত্বেও মুল্য নির্ধারণ না করেই এবং প্রকাশ্য ডাক না দিয়ে এবং আমাদের শতকরা ২০ ভাগ কমিশন নির্ধারণ না করেই গোপনে বিক্রয়যোগ্য ৩ হাজার ৮ শত গাছের মধ্যে ১ হাজার ২ শত গাছ উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আনম , ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল আলম,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল সরকার, ও ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্যরা যোগসাজোশে গত ২৮/০৭/২১ তারিখে বিক্রয় করেছেন এবং বাকি ২ হাজার ৬ শত গাছ বিক্রির পায়তারা করছেন। এব্যাপারে আমরা চুক্তিবদ্ধ উপকারভোগী হিসেবে বিক্রিতগাছের বিক্রয় মুল্য জানতে চাইলে উল্লেখিত কর্মকর্তারা আমাদেরকে কোনোরূপ অংশীদার বা ভাগ প্রাপ্যনয় বলে সাফ জানিয়ে দেয়। আমরা সহযোগীতা পেতে সকলের সাথে বারংবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বিফল হয়েছি।
প্রকল্পের আওতায় রাস্তার উভয় পার্শ্বে রোপনকৃত বৃক্ষগুলি সম্মিলিত ভাবে আমরা দীর্ঘদিন দেখাশোনা করে নিজ সন্তানের ন্যায় বড় করেছি,বর্তমানে যার একেকটি গাছের মুল্য এখন আনুমানিক ১০ হাজার টাকা। গোপনে বিক্রিত গাছের আনুমানিক মুল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা যার মধ্যে আমাদের প্রাপ্্য কমিশন শতকরা ২০ ভাগ হিসেবে দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা আমরা পাইনি। এজন্যে আমরা আমাদের প্রাপ্য ২০ ভাগ কমিশনের অর্থ বুঝে পেতে এবং সরকারে সাথে চুক্তি মোতাবেক সকল প্রাপ্্যতাসহ আগামীতে ২৬০০ গাছ বিক্রির সঠিক ব্যবস্থাপনাসহ সুমদয় কমিশন সুষ্ঠভাবে বুঝে পেতে আমরা সম্মিলিতভাবে দিনাজপুর আদালতের কাছে বিচার প্রার্থনা করে বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যনসহ ৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছি। যার মামলা নং ১৬৯/২১ অন্য তাং ১২/০৮/২১
সংবাদ সম্মেলনে সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অতিদরিদ্র মানুষ হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের অনিয়ম দূনীর্তি বন্ধ ও উপকারভোগীদের ন্যায্য পাওনা পেতে সহযোগীতা চাই। এসময় সংবাদ সম্মেলনে সুবিধাবঞ্চত নারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লায়লা,ছালেহা,কুলছমা,রাজিয়া,মরিয়ম,জনতা ও জয়মনি।