দেশের স্বনামধন্য মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসের লোগো ও নাম ব্যবহার করে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছে মেডিনোভা সিটি সেন্টার নামের একটি ডায়াগনষ্টিক প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতারণার আশ্রয় নেয়া প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে দক্ষিনাঞ্চলের সবথেকে বড় চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসের সামনেই সাইনবোর্ড ও লোগো ব্যবহার প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের গলা কাটছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভূয়া মেডিনোভা সিটি সেন্টার নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি নিন্মমানের ও পুরনো যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রোগী টানতে মেডিকেলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দালালও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ওই দালালরা মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসের নাম করে রোগীদের ওই ভূয়া প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়ে যাচ্ছে। নিন্মমানের ও পুরনো যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি ব্যবহার করায় রোগীদের করা পরীক্ষা-নীরিক্ষার রিপোর্ট নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে রোগীদের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া মেডিনোভা সিটি সেন্টারে রোগীর পরীক্ষা করতে আসা রোগীর স্বজন আলামিন বলেন, আমার চাচা বানারীপাড়ার ইউসুফ আলী মঙ্গলবার সকালে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে দেন। এর মধ্যে সিটিস্ক্যান করার জন্য আমি ভাল ডায়াগনস্টিকের সন্ধান করি। হাসপাতালের সামনে থাকা মেডিনোভা সিটি সেন্টার দেখে আমি প্রথমে ভাবি এটি মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস। কিন্তু পরীক্ষা করার রিপোর্ট হাতে পেয়ে বিভিন্নভাবে মিলিয়ে দেখি আমি মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসের নামে প্রতারিত হয়েছি। এছাড়া চিকিৎসকের নিকট গেলে তিনিও ওই রিপোর্ট দেখে ভাল ডায়াগনস্টিক থেকে পুনরায় পরীক্ষা করতে বলেন। কারন মেডিনোভা সিটি সেন্টারে নিন্মমানের ও পুরনো যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি ব্যবহার করায় রিপোর্টটি ভাল বোঝা যাচ্ছে না। পরে পুনরায় আমি ভাল মানের ডায়াগনস্টিক থেকে সিটিস্ক্যান করে চিকিৎসকের নিকট গেলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আলামিন আরো বলেন, আমি আসল মেডিনোভা মনে করে সেখান থেকে সিটিস্ক্যান করিয়েছি। এতে করে আমাকে বিড়ম্বনাসহ অর্থ নষ্ট হয়েছে। বরিশাল মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসের জেনারেল ম্যানেজার সানোয়ার হোসেন এসব বিষয়ে বলেন, আমাদের নাম ও লোগো ব্যবহার করে একটি ভূইফোড় প্রতিষ্ঠান রোগীদের গলা কাটছে। এতে করে আমাদের প্রতিষ্ঠানে দুর্নাম হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করবো। মেডিকেলের সামনে থাকা ডায়াগনষ্টিকের একাধিক মালিকরা জানান, বর্তমান বাজারে একটি ভালোমানের সিটিস্ক্যান মেশিন ক্রয় করতে গেলে প্রায় ৩ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু মেডিনোভা সিটি সেন্টার নামের এই প্রতিষ্ঠানটি নিন্মমানের ও পুরনো যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে রোগীদের সাথে প্রতারনা করে যাচ্ছে। আমরা অতি দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।
জানা গেছে, মেডিনোভা সিটি সেন্টার নাম নিয়ে গত ৪ দিন পূর্বে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করেছে। বেশি পার্সেন্টেজের মাধ্যমে পুরো মেডিকেল ও নগরীতে দালাল নিয়োগ দিয়েছে। দালালরা স্বনামধন্য মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসের নাম বলে ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে। দ্বীন ইসলাম নামের একজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি মূল হোতা।
এছাড়া দ্বীন ইসলামের সাথে হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৩ এর এমএলএস জুয়েল, সার্জারি ওয়ার্ডের ঝাড়ুদার রনি, মেহেদী হাসান মিলন, এমএলএস রিনা, ক্লিনার সাথি, মাসুম, লিটনসহ আরো বেশ কয়েকজন প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইলে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।