• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ !

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২, ২০২১, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ
পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ !

বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এক পুলিশ সদস্যকে নিয়ে কে বা কারা একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে সেই অভিযোগে পত্রে নেই অভিযোগ কারির নাম। অভিযোগে উল্লেখ ছিল, চান্দখালী বাইপাস এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে মাদক সেবন করে পেয়ারুল নামের এক পুলিশ সদস্য। সে তথ্যের আলোকে তথ্য সংগ্রহের জন্য নামে সংবাদকর্মীরা। বেরিয়ে আসে সঠিক তথ্য।
স্থানীয়রা বলেন, কনস্টেবল পেয়ারুল মাদক নির্মূলে ভালো ভূমিকা পালন করছেন। এই এলাকায় কোন পুলিশ সদস্য যদি ভালো কাজ করে, মাদক বিক্রেতারা “ভুতুড়ে” অভিযোগ দিয়ে সেই পুলিশ সদস্যকে বদলি করে দেয়। তারা চায়না এলাকার মাদক নির্মূল হোক।

স্থানীয়রা আরো বলেন, এমন পুলিশ সদস্য যদি সব জায়গায় থাকে, তাহলে নিয়ন্ত্রণে আসবে মাদক বেচাকেনা। শান্তিতে থাকবে এলাকাবাসী।

মাদক নির্মুলে ঐ পুলিশ সদস্য কেমন ভুমিকা ছিলো? এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয়রা বলেন, যে মাদক নির্মূলে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে তাকে নিয়ে এমন অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। এখানে এর আগে জেই ভালো কাজ করেছে তাঁকেই এভাবে “ভুতুড়ে” অর্থাৎ বেনামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অন্য জায়গায় পাঠিয়েছে। তারা এমন ঘটনার বিচার চেয়ে যারা পুলিশকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানান।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশিদ দুলাল বলেন, বেতাগী উপজেলার চান্দখালী বাজারে মাদক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ অহরহ চলছে। কিন্তু চান্দখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র হবার পর এখানে মাদক বিক্রি সহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যকালাপ বন্ধ হয়ে গেছে।

মাদক নির্মূলে যেই ভাল কোন ভুমিকা পালন করেছে, তাকেই বেনামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে এই এলাকার কিছু লোক। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে চাই এলাকায় মাদক বিক্রি বন্ধ হোক। এই যে পেয়ারুল নামের একজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে বেনামে যে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে সেটি অসত্য ঘটনা।

পেয়ারুল আসার পর এই এলাকায় মাদক বিক্রি অনেকটা কমে গেছে । একজন পুলিশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা বেনামে অভিযোগের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এবং এর সাথে জারাই জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।

এ বিষয়ে চান্দখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদক নির্মূলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ মাদকের প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা দিয়েছেন। দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশ ও জাতির তথা মানুষের জানমাল নিরাপত্তায় বাংলাদেশ পুলিশ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু মাদক ব্যবসায়ী এবং ক্রেতার কারণে পুলিশকে বিভিন্ন সময়ে হয়রানি হতে হয়। চান্দখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল পেয়ারুল আসার পর মাদক অনেকটা কমে গেছে এই ইউনিয়নে। এক কথায় বলা যায় পেয়ারুল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের একটা রত্ন।

বেনামে একজন পুলিশ সদস্য কে নিয়ে যে অভিযোগটি দিয়েছে সেটা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা আরও শুনেছি এখানে যে ভাল কাজ করে সে বেশিদিন টিকতে পারেনা।

এ বিষয়ে কনস্টেবল পেয়ারুল বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে যখনই যোগদান করেছি তখনই প্রতিজ্ঞা করেছি ” মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দিব জাতিকে” এই প্রতিজ্ঞাকে বাস্তবে রূপ দিতে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি । মাদক বেচাকিনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণেও আসছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি দিয়েছে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসল ঘটনা হলো, বেতাগী উপজেলার ৬ নং কাজিরাবাদ ইউনিয়নকে মাদক মুক্ত করতে চেয়েছি। কিন্তু যাদের মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে তারাই আমার বিরুদ্ধে বেনামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমার অনুরোধ, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। সচেতন মহলের দাবি, এমন একজন পুলিশ সদস্য যদি ৬নং কাজিরাবাদ ইউনিয়নে থাকে তাহলে অনেকটা কমে যাবে মাদক বেচাকেনা। চান্দখালী তথা ৬নং কাজিরাবাদ ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা ৭ নং সরিষামুড়ি ইউনিয়ন এর সাধারণ মানুষের দাবি , পুলিশ সদস্য পেয়ারুল জেনো বেতাগী উপজেলার ৬ নং কাজিরাবাদ এবং ৭ নং সরিষামুড়ি ইউনিয়ন দায়িত্বে থাকে। তাহলে কমে যাবে মাদক সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ। ইউনিয়ন থেকে থেকে নির্মূল হবে ভয়াবহ মাদক।

জঙ্গিবাদ নির্মূলের মতোই দেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। কারণ সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। পুলিশও সেই নীতি গ্রহণ করেছে।