বানারীপাড়া প্রতিনিধি
বানারীপাড়ায় স্ত্রী পিংকির সঙ্গে প্রতারনা ও নিজের নামে তালাক নামা তৈরী করে ফেসে গেছেন ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবীকরা স্বামী মোস্তফা মৃধা। এঘটনায় শুক্রবার রাতে পিংকি মৃধা বাদী হয়ে থানায় তার স্বামী মোস্তফা মৃধা (৩৩)’র বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মোস্তফা মৃধাকে গ্রেফতার করে শনিবার সকালে কোর্ট হাজতের মাধ্যমে বরিশাল জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কুমুরী গ্রামের পিংকি মৃধা জানান, উপজেলার ধারালিয়া গ্রামের আব্দুর রব মৃধার ছেলে মোস্তফা মৃধার সঙ্গে প্রায় ৫ বছর পূর্বে তার বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। স্বামী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে তাদের সংসার বেশ ভাল ভাবেই চলে আসছিল। সম্প্রতি হঠাৎ স্বামী মোস্তফা মৃধা তার পিত্রালয় থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার কথা বলে। সে ওই টাকা এনে দিতে না চাওয়ার কারণে স্বামী মোস্তফা মৃধা প্রায়ই তাকে মারধর করে আসছিল। এর পরেও তিনি স্বামীর নির্যাতন সয্য করে তিন বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে শ^শুর বাড়িতেই থেকে যান। পিংকি মৃধা আরও জানান, ১৫ দিন পূর্বে তার স্বামী মোস্তফা মৃধা একটি এনজির থেকে লোন উত্তোলনের করার জন্য তার কাছে ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষ নেন। পরে সে ওই ষ্ট্যাম্পে বরিশাল নোটারী পাবলীকের মাধ্যমে তাকে (স্ত্রী-স্বামীকে) তালাক দিয়েছে বলে একটি তালাক নামা তৈরী করেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে মোস্তফা মৃধা তার স্ত্রী পিংকিকে মৃধাকে ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে বেদম মারধর করে। এসময় পিংকি তাকে ওই টাকা তার পিত্রালয় থেকে এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মোস্তফা মৃধা ক্ষিপ্ত হয়ে বেদম মারধর করে। এসময় মোস্তফা মৃধা উক্ত ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে নোটারী পাবলীকের মাধ্যমে স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক দিয়েছেন বলে কোলের শিশুকে রেখে রাতের আধাঁরে ঘর থেকে বাইরে বের করে দেয়। পরে সে কোন উপায়অন্ত না পেয়ে পাশর্^বর্তী মহিলা ইউপি সদস্য রেকসোনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। সেখানে তিনি স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের কথা জানান। এসময় মহিলা ইউপি সদস্য রেকসোনা বেগমের নির্যাতিতার কথা শুনে তার বাড়িতে আশ্রয় দেন। পর দিন
সকাল থেকে রেকসোনা বেগম মোস্তফার বাড়িতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমযোতা করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন। পরে ওই দিন রাত পৌনে ৮টায় পিংকি মৃধা বাদী হয়ে তার স্বামী মোস্তফা মৃধাকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেণ। থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ ইনেপ্ক্টের (ততন্ত) মো.জাফর আহম্মেদ ওই মামলাটি তদন্ত করার জন্য এস.আই অপূর্ব কুমার দাসকে নির্দেশ দেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই রাতেই উপজেলঅর ধারালিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেণ। পরদিন তাকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ ইনেপ্ক্টের (ততন্ত) মো.জাফর আহম্মেদ জানান।