জি.এম রিপন,বানারীপাড়া ঃ
বরিশালের বানারীপাড়ায় কোটালীপাড়া-ভেনাপোলের সাথে সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশারকান্দির কচাঁ নদীতে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যায়ে র্নিমানাধীন চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজ নির্মান কাজ ধীর গতিতে এগিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে ওই ব্রিজ নির্মান কাজ শেষ হতে নির্ধরিত সময়ের চেয়ে আরও প্রায় দেড় বছর সময় লেগে যেতে পারে। এবিষয়টি নিশ্চিৎ করে এলজিইডির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন।
অপরদিকে চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজে ব্যবহ্নিত পাথর ও উপকরনের মান নিয়েও প্রশ্ন? দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা জাকির বাহাদুরসহ একাধিক ব্যাক্তি জানিয়েছেন, সম্প্রতি ওই ব্রিজের দু’টি স্প্যান সেট করার সময় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করতে গিয়ে ¯িøপ কেটে দু’টি গার্ডার ভিম নদীতে পড়ে যায়। এসময় সেখানে তিন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়। এছাড়া ভাল পাথরের স্যাম্পল রেখে ওই ব্রিজের অধিকাশং ক্ষেত্রে নি¤œ মানের পাথর ও উপকরণ ব্যবহার করার অভিযোগ করেণ ওই নেতা। এবিষয়টি একান্তই মনগড়া মন্তব্য বলে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো.জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন। তিনি জানান, ওই ব্রিজে সঠিক মানের পাথর ও উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া তিনি উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীকে নিয়মিত ওই ব্রিজ নির্মান কাজ দেখা-শুনা করার দায়ীত্ব দিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে বরিশাল এলজিইডি সূত্র জানান, ২০১৭ সালের ২৪ আগষ্ট তারা এলবিজি প্রকল্পের অর্থায়নে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যায়ে বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ইউনিয়নের কচাঁ নদীতে ৪০৫ মিটার দৈর্ঘ এবং ৯’৩ মিটার প্রস্থ চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজ নির্মানের টেন্ডার দেয়া হয়। ওই সময় তারা চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজের দুই পারের এ্যাপ্রোস সড়ক নির্মানের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করেণ। এসময় তারা ওই ব্রিজের এ্যাপ্রোস সড়ক নির্মানের টেন্ডার দিতে পারেননী। ফলে তারা দীর্ঘ তিন বছরেও ওই ব্রিজের দুই পশের এ্যাপ্রোস সড়ক নির্মান করতে পারেননী।
জানা গেছে, সম্প্রতি বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো.জামাল উদ্দিন ওই ব্রিজের দুই পাশে ১১’শ মিটার ভায়াডাক এ্যাপ্রোস সড়ক নির্মানের ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে সংশ্লীষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি সংশ্লীষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই ওই ব্রিজের ভায়াডাক এ্যাপ্রোস সড়ক নির্মান কাজ’র টেন্ডার আহবান করতে পারবেন বলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো.জামাল উদ্দিন জানান।
এদিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বিশারকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.সাইফুল ইসলাম সান্ত জানান, চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজ নির্মান কাজে দীরগতির কারণে তাদের উন্নয়ন কাজ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ওই ব্রিজিটির ভায়াডাক এ্যাপ্রোস সড়ক ও উজিরপুরের হারতার ব্রিজের সংঙ্গে সাতলা বিশ^ রোডের সংযোগ সড়কটি নির্মান করা হলেই দ্রæত তারা সড়ক পথে বরিশাল থেকে উজিরপুরের সাতলা বিশ^ রোড হয়ে কোটালীপাড়া, খুলনা, যশোহর ও ভেনাপোল সিমান্ত এলাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সড়ক পথে তাদের যাত্রীবাহী বাস চলাচলে বরিশাল থেকে সীমান্তবর্তী এলাকার দূরত্ব কমবে এবং মালামাল পরিবহণে ট্রাক ভাড়াও অনেকটা সাশ্রয়ী হবে বলে তিনি জানান। ফলে এ অ লের হাজার হাজার মৎস্য চাষী ও কয়েক লাখ কৃষক ওই ব্রিজ দিয়ে নিয়মিত ভারী যানবাহনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মালামাল পরিবহণ করতে পারবেন বলেও ইউপি চেয়ারম্যান সান্ত জানান। তিনি দ্রæত চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজের ভায়াডাক এ্যাপ্রোস সড়ক ও হারতা ব্রিজের সংঙ্গে সাতলা বিশ^রোডের সংযোগ সড়ক নির্মানের দাবী জানান। এব্যাপারে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো.জামাল উদ্দিন জানান, আমি এখানে যোগদান করার পূর্বে ২০১৭ সালের ২৪ আগষ্ট বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ইউনিয়নের কচাঁ নদীতে এলবিজি প্রকল্পের অর্থায়নে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০৫ মিটার দৈর্ঘ ও ৯’৩ মিটার প্রস্থ চৌমোহনা-রাজাপুর ব্রিজ নির্মান কাজের ওয়ার্ক অডার দেওয়া হয়। আড়াই বছর মেয়াদে মেসার্স অরিয়েন্টাল ট্রেডিং এন্ড বিল্ডারর্স (ওটিবিএল) ও মেসার্স কহিনুর এন্টার প্রাইজ জয়েন্টভে ারে ২০১৮ সালের প্রথম দিকে ওই ব্রিজের নির্মান কাজ শুরু করেণ। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ডিজাইন জটিলতার কারণে ওই ব্রিজের নির্মান কাজ থেমে যায়। পরবর্তীতে তারা আবার ওই ব্রিজের ডিজাইন সংশোধন করেন। ২০১৮ সালের শেষের দিকে ঠিকাদরিী প্রতিষ্ঠান দু’টি নতুন করে ওই ব্রিজ নির্মান কাজ শুরু করেণ। বর্তমানে ওই ব্রিজের মাঝে দু’টি স্পান নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। এদু’টি স্পান ও দুই পাশের ১১’শ মিটার ভায়াডাক এ্যাপ্রোস সড়ক নির্মান কাজ শেষ হতে এখনও প্রায় দেড় বছর সময় লেগে যেতে পারে বলেও এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।